দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মাদ্রাসা ছাত্র সাকিব আহমেদ (১৪)-কে মারধর ও নির্যাতনের সংবাদ গত শনিবার দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘দুই শিশুর ধাক্কাধাক্কি ছেলের পক্ষ নিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুকে পেটালেন শিক্ষক’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরেই নুরুল হুদা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত ইংরেজির শিক্ষক হুমায়ূন কবির (৫১) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
শনিবার ভোরে উপজেলা পলাশবাড়ী ইউনিয়নের আটরাই ডাঙ্গা গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত ছামকুর ছেলে। শনিবার দিনাজপুর আমলি আদালত-৫ এ উপস্থিত করা হলে আদালত তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পার্বতীপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিধান চন্দ্র বর্মণ জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক হুমায়ূন কবিরের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া ছেলে জাহিনের সঙ্গে সাকিবের প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে ধাক্কা-ধাক্কি হয়। এর জের ধরে শিক্ষক হুমায়ূন কবিরের ভাতিজা সৌরভ আহমেদ (১৯) ও শিক্ষক হুমায়ূন কবির পালাক্রমে সাকিবকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে হুমায়ূন কবির ও পরিবারের সদস্যদের হুমকির মুখে বাড়ি ছেড়ে তার দাদিকে নিয়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা গ্রামের তার নানা বাড়িতে চলে যায়। বর্তমানে সাকিব হাতিবান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে, ছেলে আহত হওয়ার খবর পেয়ে তার মা ও বাবা ঢাকার কর্মস্থল থেকে শুক্রবার বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে বাবা বাদী হয়ে ওই দিন রাতেই শিক্ষক হুমায়ূন কবিরসহ ৪ জনকে আসামি করে পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
হুমায়ূন কবিরের কর্মস্থল নুরুল হুদা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, ব্যবহারেই মানুষের আসল পরিচয়, তাকে দেখলে সহজ-সরল মনে হলেও তার কৃতকর্ম কোনভাবে সমর্থন যোগ্য নয়।
তিনি জানান, হুমায়ূন কবির ১৯৯৩ সালে এ বিদ্যালয়ে করণিক পদে যোগদান করেন। পরে ২০১৩ সালে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) ও ২০১৯ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন।
পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মাদ্রাসা ছাত্র মারধর ও নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক হুমায়ূন কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।