১৪ বছরের কিশোরী রোয়ান কোনো স্কুলে যায় না। ৬ ফুট বাই সাড়ে ৪ ফুটের ছোট্ট একটি কক্ষে ঘুমায়। সেলুন কিংবা পার্লারে গিয়ে চুল কাটতে হয় না তাকে। তার ছোট দুই ভাইয়ের টানা কয়েক সপ্তাহ স্যান্ডেল না পরলেও চলে। পরতে হয় না কোনো স্কুল ড্রেসও। কারণ সমুদ্রের বুকে একটি নৌকাই তাদের ঘরবাড়ি। তাদের ব্রিটিশ বাবা-মা সন্তানদের বড় করতে ভেসে বেড়াচ্ছেন সমুদ্রে। লিখেছেন পরাগ মাঝি
ভাসমান ঘরবাড়ি
গত মাসের শুরুর দিকে ভূমধ্যসাগরে ছোট্ট স্প্যানিশ দ্বীপ ফোরমেনতেরা উপকূলের একটি পোতাশ্রয়ে রোয়ানদের প্রতিবেশী ছিল আরেকটি নৌকা। সেই নৌকাটিতে ছিল এক আর্জেন্টাইন পরিবার। রোয়ানদের মতোই গত তিন বছর ধরে সমুদ্রের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে তারা। বাবা-মা আর ১২ বছরের কন্যা। মোট তিনজন সদস্য ওই পরিবারে।
সমুদ্রের ভাসমান জীবনে স্থায়ী কোনো প্রতিবেশী হয় না। আর্জেন্টাইন পরিবারটির সঙ্গে দেখা হওয়ার কয়েকদিন আগেই স্পেনের ইবিজা দ্বীপের উপকূলে একটি জার্মান ও একটি সুইস পরিবার কয়েকদিনের জন্য রোয়ানদের প্রতিবেশী হয়েছিল। পরে একদিন বিদায় জানিয়ে অন্যদিকে ভেসে গেছে তারা। এবার আর্জেন্টাইন পরিবারটিকে বিদায় বলে স্পেনেরই ম্যালোরকা দ্বীপ অভিমুখে ছুটে চলেছে রোয়ান, তার ছোট দুই ভাই ড্যারোচ ও ইয়ান এবং বাবা অ্যালেন উডি ও মা ইরেনকা। সেখানে আরেকটি পরিবার নোঙর ফেলে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে তাদের বাড়ি। মাত্র এক বছর আগে তাদের সামুদ্রিক জীবন শুরু হয়েছে। কয়েক মাস আগেই স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অ্যালমেরিয়া দ্বীপে দুই পরিবারের প্রথম পরিচয় হয়েছিল। করোনাভাইরাসের কারণে সেই দ্বীপে পরিবার দুটি একসঙ্গে স্প্যানিশ লকডাউনের কবলে পড়েছিল। দুই পরিবারই তাদের নৌকাগুলোর ছোটখাটো কয়েকটি ত্রুটি সারাবার জন্য ওই দ্বীপে গিয়েছিল। রোয়ানের বাবা-মা আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাই দীর্ঘ ভ্রমণে ছোটখাটো সমস্যাগুলোও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে ভেবেই নৌকার ত্রুটি সারাতে যান তারা।
ম্যালোরকা দ্বীপে অবস্থান করার সময়ই স্প্যানিশ সরকার লকডাউন ঘোষণা করে। এ অবস্থায় দ্বীপ ছেড়ে বের হওয়ার আর কোনো উপায় ছিল না অ্যালান উডি ও ইরেনকা দম্পতির। পরে ভূমি থেকে অন্তত ২০ ফুট উঁচুতে তাদের নৌকাটিকে কাঠের একটি অবকাঠামোর ওপর রাখা হয়। একটি সিঁড়ি বেয়ে তাদের নিচে নেমে আসতে হয়। তবে, শুধু খাদ্য সংগ্রহ ছাড়া নৌকা থেকে নেমে আসার কোনো অনুমতি ছিল না। রোয়ানদের পাশেই একই রকম ভাবে আরেকটি নৌকাও ছিল। সেই নৌকাটিই ছিল রাশিয়ার সাইবেরিয়া থেকে আসা ডেন ও জেনিয়া দম্পতির। ইংলিশ দম্পতি অ্যালেন উডি ও ইরেনকার মতো ডেন ও জেনিয়ারও তিন সন্তান।
লকডাউনের কারণে অ্যালমেরিয়া দ্বীপে আটকে থাকার দিনগুলো দুই পরিবারের জন্য দুঃসহ হয়ে উঠেছিল। মন চাইলেই নৌকা থেকে নিচে নামার কোনো উপায় ছিল না। কারণ ড্রোনের সাহায্যে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হতো ওই এলাকাটিকে। বিষন্ন সেই দিনগুলো দুই পরিবারকে খুব কাছে টেনে আনে। একে অপরের সঙ্গে খাদ্য বিনিময় করতেন তারা। সামুদ্রিক জীবন শুরু করার আগে সাইবেরিয়ায় মেকানিকের কাজ করতেন ডেন। আর জেনিয়া প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করতেন। তিন বাচ্চা সামলে এখনো সময় পেলে প্রোগ্রামিং নিয়ে মেতে ওঠেন তিনি। এ থেকে কিছু আয়ও যোগ হয় পরিবারে।
পুরনো বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেই সারা রাত নৌকা চালিয়ে ম্যালোরকা দ্বীপের উপকূলে গিয়ে পৌঁছায় অ্যালেন উডি ও ইরেনকা দম্পতির নৌকাটি। দুই পরিবারের যৌথ উদ্যোগে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। শিশুরাও তাতে দারুণ আনন্দিত। মেতে উঠেছে নানা খেলায়। সামুদ্রিক পরিবারগুলোর এই সম্মিলন সাময়িক। কারণ শিগগিরই তারা একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ভেসে যাবেন অন্য কোনো গন্তব্যে।
সমুদ্রের ডাক
ঐতিহ্য আর চিরাচরিত সামাজিক নিয়ম-কানুনকে অবিশ্বাস করেন না অ্যালেন উডি আর ইরেনকা দম্পতি। তবে তারা এটা মনে করেন না যে, সন্তানদের মানুষ করার জন্য এসব নিয়ম-কানুনই সেরা। তাই ২০১৭ সালে তিন সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে সমুদ্রে সংসার শুরু করেছিলেন তারা। যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ডে এক প্রত্যন্ত গ্রামে বাস করতেন অ্যালেন আর ইরেনকা। সমুদ্রের বুকে ৫৩ ফুট দীর্ঘ একটি নৌকায় এঁটে গেছে তাদের ঘর-সংসারের যাবতীয় সব কিছু।
প্রচলিত জীবনের বাইরে গিয়ে নতুন একটি জীবন শুরু করার স্বপ্ন তারা দেখতে শুরু করেছিলেন ২০০৪ সালে। সে-সময় গ্রিসের একটি দ্বীপে দুজনই খুব কম বেতনে চাকরি করতেন। দুজনেরই একই কাজ ছিল। মূলত তারা নৌকা চালনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতেন। কাজ করতে গিয়েই তাদের প্রথম পরিচয় হয়। তারপর দারুণ রোমাঞ্চকর সময় কাটতে শুরু করে তাদের। নৌকা নিয়ে দূর সমুদ্রে ভেসে যেতেন দুজনে।
অ্যালেন আর ইরেনকার এই ছন্নছাড়া জীবনে হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে ইরেনকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যাওয়ার পর। অনাকাক্সিক্ষত এই ঘটনার পর বাধ্য হয়েই প্রচলিত সামাজিক ও দাম্পত্য জীবন শুরু করার জন্য তারা ফিরে যান ইংল্যান্ডে অ্যালেনের গ্রামের বাড়িতে। দাম্পত্য জীবনের এক যুগ তাদের সেখানেই কাটে। একে একে তিন সন্তানের জন্ম হয়। এই সময়ের মধ্যে তারা নৌ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক একটি স্কুল স্থাপন করেন। ছোট আকারে ফার্নিচার ব্যবসাও শুরু করেন অ্যালেন। তবে, কোনো কিছুই তাদের সমুদ্রের প্রতি টানকে মলিন করতে পারেনি। ব্যবসায় খুব বেশি গোছানো ছিলেন না অ্যালেন। সমুদ্রের ডাক তাকে কোনো কিছুতেই স্থায়ী হতে দেয়নি।
বাড়ি ছেড়ে নৌকায়
প্রথম সন্তান রোয়ানের জন্মের পর দুটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন অ্যালেন আর ইরেনকা। এর মধ্যে তৃতীয় সন্তান জন্মের পর পুরোপুরি সামাজিক দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করেন এই দম্পতি। একই সঙ্গে প্রচলিত সামাজিক আচার, রীতিনীতির প্রতি বৈরাগ্যও শুরু হয় তখন থেকেই।
তৃতীয় সন্তান ইয়ানের জন্মের সময় এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় সে জলভর্তি গর্ভথলিসহ বেরিয়ে আসে। পরে গর্ভথলি ফুটো করে জল বের করে তাকে পৃথিবীর আলো দেখানো হয়। মধ্যযুগে বিশ্বাস করা হতো- এভাবে যাদের জন্ম হয় তারা খুব সৌভাগ্যবান এবং তারা কখনোই ডুবে মরবে না। তাছাড়া এ ধরনের গর্ভথলি নাবিকদের কাছে খুব জনপ্রিয় ছিল। তারা এই থলিগুলো শুকিয়ে তাবিজের মধ্যে ঢুকিয়ে গলায় পরে নিত। তারা বিশ্বাস করত এই তাবিজ সামুদ্রিক বিপদ-আপদ থেকে তাদের রক্ষা করবে।
এ ধরনের কুসংস্কারে একেবারেই বিশ্বাস নেই অ্যালেন আর ইরেনকার। তবে, জ্যাকের জন্মগত ওই ঘটনাটি তাদের সামুদ্রিক স্বপ্নকে আবারও জাগিয়ে তোলে। ব্যবসা-বাণিজ্য ধীরে ধীরে গোটাতে শুরু করেন তারা। কিছু জমি-জমা বিক্রি করে দেন। মেয়েকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে আনেন। তারপর একদিন ব্যাগ গুছিয়ে সমুদ্রের তীরে এসে হাজির হন। জমি-জমা বিক্রি করে জমানো সব টাকায় তারা তাদের নৌকাটি কিনেছিলেন। এই নৌকায় পা রাখার মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাদের ভাসমান জীবন।
করোনাভাইরাসের এই কালে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা যখন অনেক বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন সমাজ থেকে অনেক দূরে থাকা অ্যালেন আর ইরেনকা দম্পতি এ ধরনের কোনো ঝামেলায় নেই বললেই চলে। স্পেনের লকডাউনে কয়েক সপ্তাহের জন্য একটি দ্বীপে আটকে যাওয়ার ঘটনাটি ছাড়া গত ৬ মাস তারা বেশ আনন্দেই ছিলেন। মার্কিন গণমাধ্যম নিউজ উইকে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে অ্যালেন লেখেন, ‘স্থবিরতা কাটাতে অনেকেই কোনো নির্জন স্থানে ছুটি কাটাতে যাচ্ছেন। দম ফিরে পেতে কেউ কেউ সুইমিং পুলে লাফিয়ে পড়ছেন। আমাদের কাছে পুরো সমুদ্রই এক সুইমিংপুল। বলা যায়, বিশাল এক সুইমিংপুলে আমাদের ছোট্ট একটি বাড়ি।’
সমুদ্রবাসের অভিজ্ঞতা
স্থলভাগের জীবন আর সমুদ্রে ভেসে বেড়ানো জীবনের মধ্যে রাত-দিন পার্থক্য। এটা ঠিক যে, অ্যালেন আর ইরেনকার সন্তানরা সামুদ্রিক জীবনে অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত। সমুদ্রে তাদের খেলাধুলার কোনো দল নেই। চাইলেই তারা কোনো শপিং মলে ঢুঁ মারতে পারে না কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা দেওয়ারও কোনো উপায় নেই। আনুষ্ঠানিকতার কোনো বালাই না থাকায় তাদের খুব বেশি জামা-কাপড়ও নেই। রান্নাঘরের সাধারণ কাঁচি ব্যবহার করেই মাথার চুল ছাঁটা হয় তাদের। কোনো উপলক্ষ ছাড়া পারতপক্ষে তীরে যাওয়াও হয় না।
অ্যালেন জানান, নৌকার বর্জ্য পরিষ্কার এবং খাবার সংগ্রহের জন্য তারা মাঝে মাঝে কোনো তীরে যান। কখনো আবার হাইকিং করতেও মূলভূমিতে ফিরে যান। তার চতুর্দশী কন্যা রোয়ান হাইকংয়ে বেশ পারদর্শী। খাড়া কিংবা ঢালু পাহাড় বেয়ে উঠতে খুব ভালোবাসে। বড় বোনের দেখাদেখি ড্যারোচ আর ইয়ানও ধীরে ধীরে পারদর্শী হয়ে উঠছে।
নৌকা চালাতে যে জ্বালানি খরচ হয় তার বড় একটি অংশ নিজেরাই উৎপাদন করে ইংলিশ পরিবারটি। সমুদ্রের পানি থেকেই প্রক্রিয়াজাত করে তারা তাদের খাবার পানি তৈরি করে। নৌকায় আছে বেশ কয়েকটি সোলার প্যানেল। এই প্যানেলগুলো নৌকার মধ্যে বৈদ্যুতিক শক্তির জোগান দেয়। বাতি জ্বালানো, ফ্যান চালানো, মোবাইল ল্যাপটপ চার্জ দেওয়া সবই চলে এর মাধ্যমে। আছে ছোট ছোট কয়েকটি কেবিন। ঘুমানো ছাড়াও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এসব কেবিনের মধ্যে রাখা হয়েছে।
শনি আর রবিবার ছাড়া প্রতিদিনই বাচ্চারা ঘরোয়া ক্লাসে অংশ নেয়। সকাল ৯টা থেকে তাদের ক্লাস চলে। বাবা-মা’ই তাদের শিক্ষক। নিজের ব্লগে ইরেনকা জানান, মূলভূমির স্কুলগুলোতে যে শিক্ষা কারিকুলাম রয়েছে তা অনুসরণ করেই বাচ্চাদের তিনি পড়াশোনা করান। পড়াশোনায় দারুণ মনোযোগী রোয়ান। সেকেন্ডারি পর্যায়ে এখন সপ্তম শ্রেণির পাঠ নিচ্ছে সে। আর ১১ বছর বয়সী ড্যারোচ প্রাইমারি লেভেল শেষ করবে কিছুদিন পরই। পড়াশোনায় এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে ৮ বছর বয়সী ইয়ান।
সন্তানদের শিক্ষা কার্যক্রমে প্রাকৃতিকভাবে স্বশিক্ষার ওপর জোর দেন অ্যালেন আর ইরেনকা। নৌকা পরিচালনা ছাড়াও নৌকা রক্ষণাবেক্ষণেও অংশ নেয় তাদের ছেলেমেয়েরা। ইন্টারনেট তাদের শিক্ষা কার্যক্রমকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। নৌকায় বসেই তারা সমগ্র দুনিয়ার খোঁজখবর রাখতে পারে। সমুদ্রের তলদেশে নানা উদ্ভিদ, প্রাণী আর বৈচিত্র্য দেখে তারা প্রতিনিয়ত বিস্মিত হয়। বড়শি দিয়ে মাছ ধরেও তাদের দারুণ উত্তেজক সময় কাটে। সারা দিনের ব্যস্ততা তাদের একঘেয়েমি থেকে দূরে রাখে। রোয়ানের ইচ্ছা বড় হয়ে সে বিশ্বখ্যাত কোনো সুপার ইয়টের ক্যাপ্টেন হবে। অন্যথায় ব্রিটিশ নৌবাহিনীর একজন দক্ষ অফিসার হতে চায় সে। রোয়ান আর ড্যারোচ দুজনেরই বাদ্যযন্ত্রের প্রতি টান রয়েছে। নিজেদের কম্পোজ করা সুরলিপি তারা মাঝেমাঝেই তাদের পারিবারিক ব্লগে প্রকাশ করে। ইংরেজি ছাড়াও স্প্যানিশ ভাষায় তাদের ভালো দখল রয়েছে।
পৃথিবী দেখার সাধ
নৌকার মধ্যে থাকলেও খাদ্য ও জ্বালানি সংগ্রহ, কাপড়-চোপড় কেনা এবং বেড়ানোর জন্য ইংলিশ পরিবারটির অর্থেরও প্রয়োজন হয়। এই অর্থ সংগ্রহেরও একটি সহজ ব্যবস্থা রয়েছে তাদের। অ্যালেনের গ্রামের বাড়িতে যে বসতভিটা রয়েছে তা ভাড়া দেওয়া ছাড়াও আরও দুয়েকটি খাত থেকে মাসে ২ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ আসে তাদের। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অর্থ সংস্থানের আরেকটি নতুন খাত যোগ হয়েছে। এ খাতটি হলো তাদের ইউটিউব চ্যানেল। সীমিত হলেও এই আয় তাদের জীবনযাত্রায় অনেক বড় ভূমিকা রাখছে। সমুদ্রের বুকে নিজেদের নানা অভিজ্ঞতা এবং অভিযান নিয়ে তারা ভিডিও পোস্ট করেন ওই চ্যানেলে। নৌকায় বসে লেখালেখিও করেন অ্যালেন আর ইরেনকা। সেই সুবাদেও কিছু অর্থ আসে তাদের।
সন্তানদের নিয়ে সমুদ্রপথে সমগ্র পৃথিবীটাই ঘুরে দেখতে চান অ্যালেন আর ইরেনকা। স্প্যানিশ দ্বীপ অ্যালমেরিয়ায় লকডাউনের কবলে পড়ার আগে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল পরিবারটি। কিন্তু লকডাউনের কবলে পড়ে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। লকডাউন থেকে তারা যতদিনে মুক্ত হয়েছিলেন ততদিনে আটলান্টিক মহাসাগর অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় মৌসুম শুরু হয়ে যায়। তাই এই সময়ে আটলান্টিক পাড়ি দেওয়া মোটেও নিরাপদ নয়। শান্ত সাগর ও নিরাপদ ভ্রমণের জন্য ইংলিশ পরিবারটিকে আরও অন্তত ৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে। অপেক্ষার সময়টি স্প্যানিশ দ্বীপগুলোর বিভিন্ন পোতাশ্রয়ে নোঙর ফেলে ভালোই কেটে যাচ্ছে তাদের।