উপমহাদেশে হেফাজতে মৃত্যুর প্রথম সাজা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
নির্যাতন ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে বুধবার গাড়িচালক ইশতিয়াক হোসেন জনিকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় পল্লবী থানার তিন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন এবং দুই ‘সোর্সকে’ সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয় আদালত।
আনিসুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেল হত্যা মামলার বিচার হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার হয়েছে। হেফাজতে মৃত্যুর কারণে এই উপমহাদেশে প্রথম সাজাও এই সরকারের সময় হয়েছে। অপরাধীদের সাজা দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এই দেশে সবাইকে আইন মানতে হবে এবং এর ব্যত্যয় ঘটালে তার বিচার হবে এবং আইনসংগত সাজা হবে। এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।’
ফরিদপুরে ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আটতলা বিশিষ্ট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রবিবার ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী এ সময় জানান, করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় আড়াই মাস আইনজীবী বিশেষ করে জুনিয়র আইনজীবীরা তাদের প্র্যাকটিস থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতে অনেকেই আর্থিক কষ্টে পড়েছেন। তাদের কষ্ট লাঘবে স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ আমাদের ওপর তখন আস্থা রাখবে, যখন তারা সঠিক বিচার পাবে। বিচারক ও আইনজীবীরা বিচার বিভাগকে কার্যকর করার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান দুটি অর্গান। রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অর্গানের মধ্যে বিচার বিভাগ যেমন একটি, ঠিক তেমনি বিচার বিভাগকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য বিচারক ও আইনজীবীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইনস্টিটিউশন। এই দুই ইনস্টিটিউশন মিলে জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’
আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৩৭ লাখ মামলার জট রয়েছে। এই জট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. সেলিম মিয়া।