নওয়াজুদ্দীনের বিরুদ্ধে থানায় বক্তব্য রেকর্ড করলেন স্ত্রী

নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকীকে বেশ আগেই ডিভোর্সের নোটিশ পাঠিয়েছিলেন স্ত্রী আলিয়া সিদ্দিকী, এর পর দায়ের করেন এফআইআর। এর ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশের বুদানা থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে বয়ান রেকর্ড করলেন আলিয়া।

এফআইআর-এ আলিয়ার অভিযোগ ছিল, সিদ্দিকী পরিবারের এক নারীর ওপর দিনের পর দিন শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে নওয়াজের ভাই মিনহাজুদ্দীন সিদ্দিকী। এই ঘটনা জানতে পেরে তিনি তৎক্ষণাৎ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের জানালে তারা বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।

শুধু তাই নয়, বয়ানে আলিয়া শ্বশুরবাড়িতে হওয়া তার ওপর লাঞ্ছনা-অত্যাচারের অভিযোগও এনেছেন বলে বুদানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

২৭ জুন মুম্বাইয়ের এক থানায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন আলিয়া। কিন্তু এফআইআর-এ অপরাধের জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল নওয়াজের দেশের বাড়ি যা উত্তরপ্রদেশের বুদানায় অবস্থিত। আর সে কারণেই মুম্বাই পুলিশের থেকে ওই মামলা হস্তান্তরিত হয়ে যায় বুদানা পুলিশের কাছে। সেখানেই রবিবার বয়ান রেকর্ড করলেন আলিয়া।

মে মাসে ডিভোর্স চেয়ে নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকীকে নোটিশ পাঠিয়েছিলেন আলিয়া। তিনি জানান, বেশ কিছু বছর ধরেই তাদের বিবাহিত জীবন সুখের যাচ্ছিল না। অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে তাকে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও নাকি আলিয়ার পাশে বিন্দুমাত্র ছিলেন না নওয়াজ।

আলিয়ার কথায়, “একা একা গাড়ি ড্রাইভ করে চেকআপে যেতাম। আমার ডাক্তার বলতেন, আমি পাগল। ডাক্তার বলতেন, আমি নাকি একমাত্র নারী যে এই অবস্থাতেও একা একা চেকআপে আসে।’’

যেদিন প্রসব বেদনা উঠেছিল সে দিনও নাকি পাশে পাননি স্বামীকে, এমনটাই অভিযোগ আলিয়ার। উপরন্তু সেই সময়টা নাকি প্রেমিকাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে গিয়েছেন নওয়াজ। এমনকি তার অবর্তমানে নাকি বান্ধবীরা বাড়িতে এসে থাকতেন নওয়াজের সঙ্গে।

এর কিছুদিন পর আলিয়া জানান, নওয়াজ সন্তানদের খরচ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। টাকার অভাবে নাকি প্রচণ্ড অনটনের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে।

প্রথমে চুপ থাকলেও এর কিছুদিন পর মুখ খোলেন নওয়াজ। আইনজীবী আদনান শেখ মারফত পাল্টা নোটিশ পাঠান স্ত্রীকে। যেখানে উল্লেখ করা হয়, ১৫ দিনের মধ্যে ডিভোর্স দাবি করেছেন নওয়াজের বিচ্ছিন্না স্ত্রী। সেই অনুযায়ী তার পর থেকেই সন্তানদের যাবতীয় খরচ এবং খোরপোশ দিচ্ছেন অভিনেতা। আলিয়ার আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। যে ভাবে প্রকাশ্যে মানহানি করা হচ্ছে, তাতে প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করতে পারেন নওয়াজ।