টানা কয়েকদিন দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ আল-থানি।
ডয়চে ভেলে অনলাইন জানায়, দুর্নীতি ও জীবনযাপনের খারাপ মানের প্রতিবাদে কয়েকদিন ধরে বেনগাজিতে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিল মানুষ।
রবিবার শহরটিতে বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনিক সদর দফতরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এরপর লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় অন্তর্বর্তী সরকার পদত্যাগের ঘোষণা দেয়।
প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাজ আল-থানি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকারের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।
২০১১ সালে লিবিয়ার দীর্ঘ সময়ের শাসক মুয়াম্মর গাদ্দাফির শাসন শেষ হওয়ার পর দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে আলাদা প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার ক্ষমতায় আসে।
খলিফা হাফতার ও তার লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) নিয়ন্ত্রণে আছে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল। রাজধানী ত্রিপলিতে ক্ষমতা আছে জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার।
এদিকে বেনগাজি ছাড়াও এলএনএ’র শক্তি ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আল-মার্জে সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়া দক্ষিণের শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ।
গদ্দাফি শাসনের অবসানের পর থেকেই ক্ষমতার যুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে দুই পক্ষ। রাজনৈতিক সংকট, মানবিক ও অর্থনৈতিক সমস্যায় বিপর্যস্ত দেশটি।
টানা লোডশেডিং, পেট্রোল-ডিজেলের মাত্রাছাড়া দাম এবং মানুষের কাছে অর্থের অভাবের কারণে বৃহস্পতিবার থেকে পূর্বাঞ্চলে এ বিক্ষোভ শুরু হয়।
গত ১৪ মাস ধরে ত্রিপোলি সরকারের সঙ্গে এলএনএ-র সংঘাত চলছে। ত্রিপোলি শহর নিয়ন্ত্রণ নেয়ারও চেষ্টা করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।
জানুয়ারি থেকে লিবিয়ার আর্থিক অবস্থা নাজুক। দেশটির সব তেল সংস্থা এলএনএ অবরোধ করে রেখেছে। এই অবরোধ ওঠানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা।