মিয়ানমারে নির্বাচন স্থগিতের দাবি প্রধান বিরোধী দলের

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে প্রচারণা শুরু হলেও নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়েছে মিয়ানমারের প্রধান বিরোধী দল।

আলজাজিরা জানায়, ৮ নভেম্বর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত সপ্তাহে সীমিত পরিসরে প্রচারণাও শুরু হয়েছে।

তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে নির্বাচন স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল দ্য ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ও ছোট দলগুলো।

ইউএসডিপি জানিয়েছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আরোপ করা বিধিনিষেধের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রচারণা।

বিরোধী দলগুলোর আশঙ্কা, করোনায় বিধিনিষেধের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এতে সুবিধা নেবে অং সান সু কির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি-এনএলডি

সোমবার এক ভিডিও বার্তায় ইউএসডিপির চেয়ারম্যান থান তে বলেন, ‘১০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে প্রতিদিন দুইশ জনের মতো মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এখন একটি দল যদি নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। পাশাপাশি যে দলটি নির্বাচনে যাবে, তারা পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে।’

দেশের নির্বাচন কমিশনের প্রতি তিনি বলেন, ‘বেদনা নিয়ে আমি এ ভিডিওটি প্রচার করছি। এই সময় আমরা স্বার্থপরের মতো আমাদের দলকে ভোট দিতে মানুষকে বলতে চাই না। আমাদের উচিত দেশ ও মানুষের জন্য সর্বোচ্চটাই করা। জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এ নির্বাচন স্থগিত করা হোক এবং এ ব্যাপারে আমরা সহযোগিতা করব।’

করোনা মিয়ানমারে এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছে, এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের।

এদিকে গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি।

দেশের শীর্ষ বেসামরিক নেতা হিসেবে তার মর্যাদা আরও সুনিশ্চিত করতে আসন্ন নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের প্রত্যাশা করছেন তিনি।

তবে করোনার মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মিয়ানমার সরকার। কোনো প্রচারণায় ৫০ জনের বেশি অংশগ্রহণ করা যাবে না। সেই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।

যদিও সু চি’র পক্ষে বড় ধরনের মোটরবাইক শোভাযাত্রা বের করে সমর্থকেরা, যাতে কোনো ধরনের সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি।

করোনা প্রতিরোধে বিধিনিষেধ আরোপ করা এলাকাগুলোতে যেমন রাখাইন রাজ্যসহ অনেক জায়গায় কোনো ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ। মানুষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ঘরের মধ্যে অবস্থান করতে।

ইতিমধ্যে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আগের নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও নাগরিকত্ব ইস্যুতে এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকার।   

২০১৫ সালে বড় ব্যবধানে জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সু চির দল এনএলডি। দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেবার।

যদিও প্রয়াত স্বামী ও সন্তানেরা বিদেশি নাগরিক হওয়ায় মিয়ানমারের সংবিধান অনুসারে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি।

তাই তার জন্য স্টেট কাউন্সিলর পদটি সৃষ্টি করা হয়, যা প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধানের সমান। নির্বাচনে জিতে এনএলডি ক্ষমতায় আসলেও সরকারের ওপর একচ্ছত্র প্রভাব থাকে সামরিক বাহিনীর।

তবে ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গোটা বিশ্বে তিনি চরমভাবে সমালোচিত হন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখায় তাকে দেয়া বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও ফিরিয়ে নেয়া হয়, দাবি উঠে নোবেল শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ারও।