লালমনিরহাট জেলা কারাগারের ১৪ কারারক্ষীকে তাৎক্ষণিক বদলি

লালমনিরহাট জেলা কারাগারের ১৪ জন কারারক্ষীকে একযোগে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে ওই ১৪ জনকে বদলি করে প্রশাসনিক কারণে দেশের বিভিন্ন কারাগারে পদায়নের নির্দেশ দেন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কারা সূত্রে জানা গেছে, কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সাথে ঘনিষ্টতা ও মাদক সংশ্লিষ্টতার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের বদলি করা হয়েছে। 

নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতেই ১৪ কারারক্ষীকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শফিকুল ইসলামকে খাগড়াছড়ি, ওয়াহেদ আলীকে রাঙ্গামাটি, মো. সায়েমকে ভোলা, সোহেল রানাকে পিরোজপুর, মাহামুদুল হাসানকে ঝালকাঠি, মেহেদী হাসানকে বরগুনা, মোসলেম উদ্দিনকে সুনামগঞ্জ, সোলায়মান আলীকে শরিয়তপুর, রায়হান কবীরকে মাদারীপুর, শফিকুল ইসলামকে সাতক্ষীরা, নাজমুল হোসেনকে মাগুরা, আমজাদ হোসেনকে লক্ষীপুর ও লাব্বির হোসেনকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে বদলি করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাট জেলা কারাগারের জেল সুপার বিশোর কুমার নাগ বিষয়টি স্বীকার করলেও কি কারণে এক সাথে ১৪ জন কারারক্ষীকে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে তা বলতে তিনি রাজি হননি।

লালমনিরহাট জেলা কারাগারের জেল সুপার বিশোর কুমার নাগ বলেন, আদেশ জারির পরপরই ওই ১৪ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে তিনি কোনও তথ্য দিতে রাজি হননি। 

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেল সুপারকে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয় গত সপ্তাহে। চিঠিতে কারাগার উড়িয়ে দিয়ে ‘সাথী ভাইদের’ ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। চিঠিটি আমলে নিয়ে কারাগারের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি ঘটনা তদন্ত শুরু করে প্রশাসন। এই অবস্থায় গত শনিবার জেল সুপার কিশোর কুমার নাগকে একটি টেলিটক নম্বর থেকেও একইভাবে হুমকি দেওয়া হয়। ফোনে দেওয়া হুমকির পরদিন লালমনিরহাট সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে কারা কতৃপক্ষ। 

উল্লেখ্য, লালমনিরহাট জেলা কারাগারে বর্তমানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের ২০ জন সদস্য আটক রয়েছে।