লিগ ওয়ানে রবিবার রাতে পিএসজি-মার্শেইয়ের ম্যাচে পাঁচ লাল কার্ডের একটি ছিল নেইমারের। ব্রাজিলিয়ানের অপরাধ তিনি মার্শেইয়ের স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আলভারো গঞ্জালেসের মাথায় আঘাত করেছিলেন। ভিএআর দেখে এই সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। পরে টুইটারে আলভারোর বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুলেন এই ব্রাজিলিয়ান। নেইমার নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। বলেছেন, চাইলে এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে পারতেন তিনি।
নিজের ইন্সটাগ্রামে এক পোস্টে নেইমার বলেছেন, ‘রবিবার আমি বিদ্রোহ করেছি। আমাকে লাল কার্ডের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কারণ, এমন কাউকে আঘাত করতে চেয়েছিলাম যে আমার ক্ষতি করেছে। আমি ভেবেছিলাম, আমি কিছু না করে মাঠ ছাড়তে পারি না। কারণ, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, দায়িত্বে থাকা লোকেরা কিছু করবে না, বিষয়টি উপেক্ষা করে যাবে।’
টুইটারের পর ইন্সটাগ্রামেও বর্ণবাদের কথা তোলেন নেইমার। তিনি বলেন, ‘আমাদের খেলাধুলায় আগ্রাসন, অপমান, কসম কাটা এসব লড়াইয়ের অংশ। আপনি স্নেহপরায়ণ হতে পারবেন না। আমি এই লোকটিকে (আলভারো) আংশিকভাবে বুঝতে পারছি। এসব (দ্বন্দ্ব) ম্যাচেরই অংশ। তবে বর্ণবাদ ও অসহিষ্ণুতা গ্রহণযোগ্য নয়।’ নেইমার বুঝতে পেরেছনে যে তিনি চাইলেই নিজের মাথা ঠান্ডা রাখতে পারতেন। ‘আমার কি বিষয়টা (মাথায় আঘাত করা) এড়িয়ে যাওয়া উচিত ছিল? আজ (সোমবার) ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে বলছি, হ্যাঁ। তবে আমি ও আমার সতীর্থরা রেফারিদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম এবং আমাদেরকে উপেক্ষা করা হয়েছিল।’
তবে লাল কার্ডের শাস্তি মেনে নিয়েছেন নেইমার। যদিও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানে অনড় তিনি, ‘আমি আমার শাস্তি মেনে নিয়েছি। কারণ, আমার শুদ্ধ ফুটবলের পথ অনুসরণ করা উচিত ছিল। আমি এও মনে করি অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া উচিত। বর্ণবাদ আছে। আমাদের এটি বন্ধ করতে হবে। আর নয়, যথেষ্ট হয়েছে! সবশেষে নেইমার আরও বলেন, ‘লোকটি ছিল বোকা। আমিও বোকার মতো আচরণ করেছি এই কান্ডে জড়িয়ে।’
নেইমার বলেন, ‘মুখোমুখি ঝগড়াঝাটির ফলাফল দুপক্ষের জন্যই খারাপ হতে পারে। আমাদের যেকোনো লড়াইয়ের মাঝে এসব ঢোকানো উচিত নয়। আমরা আমাদের গায়ের রং পছন্দ করতে পারি না। সে সুযোগ নেই। ঈশ্বরের সামনে আমরা সবাই সমান। রবিবার আমি ম্যাচ হেরেছি এবং জ্ঞানহীনের মতো কাজ করেছি। এই ঘটনার মধ্যমণি হয়ে বর্ণবাদকে পাত্তা না দিয়ে থাকা যায় না। আমি জানি। কিন্তু বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা চালিয়ে যাওয়া আমাদের অবশ্য কর্তব্য, যাতে আমাদের চেয়ে খারাপ অবস্থায় যারা আছে তারাও ন্যায্য বিচার পায়। মাঠে আবারও আমাদের দেখা হবে এবং আমি যা চাই সেটাই হবে, ফুটবল খেলা। তুমি কী বলেছ তুমিও জানো, আমিও জানি আমি কী করেছি। বিশ্বকে আরও ভালোবাসো।’
এদিকে পিএসজি নেইমারকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছে, ‘প্যারিস সেন্ট জার্মেই পূর্ণভাবে নেইমার জেআরের পাশে আছে, যিনি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় দ্বারা বর্ণবাদ আচরণের শিকার হয়েছেন। ক্লাব বলছে আমাদের সমাজে, ফুটবলে এবং জীবনে বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই। বিশ্বব্যাপী সবাইকে সব ধরনের বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছি।’
লিগের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভা হতে পারে বুধবার (আজ)। তারা পিএসজি ও মার্শেই ম্যাচের পাঁচ লাল কার্ডের ঘটনা পুনরায় বিশ্লেষণ করে দেখবেন। তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন বাড়তি শাস্তির প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে। আলভারোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য হলে সর্বোচ্চ ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন মার্শেই ডিফেন্ডার। এদিকে ফরাসি গণমাধ্যমের সংবাদ অনুযায়ী, আলভারোকে মাথায় আঘাত করায় ৬ ম্যাচ এবং লাল কার্ডের জন্য ১ ম্যাচ অর্থাৎ মোট ৭ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন নেইমার।
লেসেঁর পর মার্শেইয়ের কাছে পরাজিত পিএসজি আজ মেৎজের বিপক্ষে লিগ ওয়ানের তৃতীয় ম্যাচ খেলবে। নেইমার ও পারেদেস লাল কার্ডের জন্য এ ম্যাচে খেলতে পারবেন না।