করোনা পরিস্থিতিতে সারা দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গাপূজা হবে সীমিত পরিসরে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। বাংলাদেশে আজ বৃহস্পতিবার মহালয়ার দিন থেকে দুর্গাপূজার ক্ষণ গণনা শুরু হবে। মহালয়ার ভোরে চন্ডিস্তোত্র পাঠ করবেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। তবে চট্টগ্রামে পূজার বাড়তি আকর্ষণ ‘মেধস মুনির আশ্রমে’ ছুটে যাওয়া। জেলার বোয়ালখালী উপজেলার করলডেঙ্গা গ্রামের পাহাড়ে আশ্রমটিকে দুর্গাপূজার উৎসভূমি বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এখানেই প্রথম দুর্গা দেবীর পূজা করা হয়েছিল।
পৌরাণিক মতে, এই পাহাড়ে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে অবতীর্ণ হন। রাজা সুরথ আর সমাধি বৈশ্য মহর্ষি মার্কেন্ডের কাছেই প্রথম দেবী মাহত্ম্যম পাঠ নেন ও দুর্গাপূজা করেন। প্রতি বছর মহালয়ায় দেবীকে মর্ত্যে আহ্বান জানাতে এই আশ্রমে হাজারো পুণ্যার্থী ভিড় করেন। এবার ভক্তদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসতে নির্দেশনা দিয়েছে আশ্রম কর্র্তৃপক্ষ।
আশ্রমের অধ্যক্ষ বুলবুলানন্দ ব্রহ্মচারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুর্গাপূজা হলো শক্তির পূজা। অশুভকে পরাস্ত করে শুভ শক্তিকে প্রতিষ্ঠা। এবার বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় উলু ও শঙ্খধ্বনি এবং চ-ীপাঠের মাধ্যমে শুরু হবে দেবী আরাধনা।’ তিনি দাবি করেন, ‘মেধস আশ্রম থেকেই প্রথম দুর্গামূর্তির পূজা প্রচলিত হয়। জীবনে একবার হলেও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা আশ্রম ঘুরে যান।’
রামায়ণে উল্লেখ রয়েছে, ত্রেতাযুগে শরৎকালে রামচন্দ্র দুর্গাপূজা করেছিলেন। তবে তারও আগে ধার্মিক রাজা সুরথ শত্রুদের চক্রান্তে রাজ্য হারিয়ে ঘুরতে ঘুরতে মেধস মুনির আশ্রমে হাজির হন। সুরথ দুর্দশা বর্ণনা করলে তাকে দুর্গাপূজা করার উপদেশ দেন ঋষি মেধস মুনির। এরপর সুরথ ও সমাধি বৈশ্য আশ্রমে দুর্গা মূর্তি গড়ে সর্বপ্রথম মর্ত্যলোকে দশভূজা দুর্গা দেবীর পূজা শুরু করেন। দেবী দুর্গার আশীর্বাদে তিনি শত্রুদের পরাস্ত করে রাজ্য উদ্ধারে সক্ষম হন। সেই থেকে প্রচলিত হয় দুর্গাপূজা।