অসাধারণ ম্যাক্সওয়েলে অবিশ্বাস্য জয়

পরশু রাতে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ যারা দেখেননি তারা মিস-ই করলেন! বারবার বদলে যাওয়া রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে ৩ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিকদের ছুড়ে দেওয়া ৩০৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র ৭৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে অ্যালেক্স ক্যারে ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের দুই সেঞ্চুরিতে দুই বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নেয় অজিরা।

উদ্বোধন করতে নামা জনি বেয়ারস্টোর ১০ ওয়ানডে সেঞ্চুরি আর বিলিংস-ওকসের দুই ফিফটিতে ৭ উইকেটে ৩০২ রান করেছিল ইংল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে ওয়ার্নার-ফিঞ্চ, স্টয়নিস, লাবুশেন ও মিচেল মার্শকে ৭৩ রানে হারিয়ে ধুঁকছিল অজিরা। সেখান থেকে উইকেটকিপার ক্যারের সঙ্গী হয়ে ২১২ রানের জুটি গড়েন ম্যাক্সওয়েল। ৮৪ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করা ম্যাক্সওয়েলকে ৪৮তম ওভারের তৃতীয় বলে আদিল রাশিদ আউট করলে আবার হঠাৎ রূপ বদলায় ম্যাচের। ৪৯তম ওভারের শেষ বলে সেঞ্চুরিয়ান ক্যারেও আউট হয়ে যান জোফরা আর্চারের বলে। দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে ইংল্যান্ড। কিন্তু তখনো নাটকের শেষটুকু বাকি। শেষ ওভারে আদিল রাশিদের মাত্র ৪ বলে ১ চার ও ১ ছয়ে ১০ রান তুলে দলকে ম্যাচ জিতিয়ে দেন মিচেল স্টার্ক।

ইংল্যান্ডকে ২০১৫ সালের পর ঘরের মাঠে প্রথম সিরিজ হারের লজ্জা দিয়েছে অজিরা এই জয়ে। এ ছাড়া ২০১৭-তে ভারতের কাছে সিরিজ হারের পর এই প্রথম কোনো ওয়ানডে (দেশে-দেশের বাইরে) সিরিজে হারল ইংলিশরা। সিরিজের শুরুতে ওয়ানডেতে জয়ের ফর্মুলা খোঁজার কথা বলেছিলেন অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। এই সিরিজে সম্ভবত তা পেয়েও গেছেন। সঠিক লাইনআপে দুই সেঞ্চুরি ম্যাক্সওয়েল ও ক্যারে ফিঞ্চকে স্বস্তি দিয়েছেন। সিরিজ জয়ের দিনে মানসিক অবসাদগ্রস্ততা থেকে উঠে আসা ম্যাক্সওয়েল করলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ওদিকে ক্যারে করলেন প্রথম সেঞ্চুরি। অথচ মাত্র ৯ রানে জীবন পেয়েছিলেন ক্যারে।

ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারটা ম্যাক্সওয়েলের হাতেই উঠেছে। অথচ এক বছর আগেও ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়ে যায়। মানসিক অবসাদগ্রস্ততার জন্য ক্রিকেট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। সেই ধাক্কা সামলে পুরোদমে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন গ্লেন। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে করেছেন ৭৭ রান, এবার সেঞ্চুরি। সিরিজ সেরা হওয়ার পাশাপাশি দ্রুততম (১১৩ ম্যাচে) ৩ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। ৩ হাজার রান ছুঁতে ২৪৪০ বল খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জস বাটলার ৩ হাজার করতে খেলেছিলেন ৯২ বল বেশি।

ম্যাচ শেষে সেই অবসাদগ্রস্ততা নিয়ে কিছু বলেননি ম্যাক্সওয়েল। তবে জানান, এমন চাপে থাকলেই তার সেরা খেলাটা বেরিয়ে আসে ‘করোনার সময়ে ফিঞ্চের সঙ্গে একাকী অনুশীলন আমাকে সুস্থ হতে সাহায্য করেছে। সে দলে আমার সঠিক দায়িত্ব বুঝিয়েছে। আমরা এ নিয়ে অনেক কথা বলেছি। আজ সবকিছুই পরিকল্পনা মতো হয়েছে। ৭৩ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর আমাদের জন্য বাঁচা-মরার খেলা হয়ে যায় ম্যাচটি। এখান থেকে আমাদের আক্রমণ করাই একমাত্র পথ ছিল। আমরা সেটাই বেছে নিয়েছি এবং আমাদের পরিকল্পনা দারুণভাবে কাজ করেছে। আমরা যে সময় ৫ উইকেট হারিয়েছিলাম তার ১০ ওভারের মধ্যে আরেকটি উইকেট হারালে আমরা খুব বিপদে পড়ে যেতাম। ভাগ্য ভালো আজ সেটা হয়নি এবং সবকিছু আমাদের পক্ষে এসেছে। আমার আউট হওয়াটা বাজে ভুল ছিল কিন্তু দিন শেষে আমরা জিতেছি এটাই বড় ব্যাপার।’ 

নাটকীয় এই জয়ের পর যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। ‘অবিশ্বাস্য এক ক্রিকেট ম্যাচ। ৫ উইকেট পড়ার পর আশার জায়গা খুব বেশি ছিল না, বিশেষ করে ম্যাক্সওয়েলের পর যখন উইকেটে যেতে হয় প্যাট কামিন্সকে (লোয়ার অর্ডার শক্তিশালী নয় ততটা)। তবে এই ভরসা ছিল, ম্যাক্সি (ম্যাক্সওয়েল) পাল্টা আক্রমণ করতে পারে। অসাধারণ খেলেছে ম্যাক্সি, অ্যালেক্সের (ক্যারে) সঙ্গে ওর জুটি ছিল দুর্দান্ত। ওরা যে পরিশ্রম করে আসছে, সেটির ফল মিলেছে।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ইল্যান্ড : ৫০ ওভারে ৩০২/৭ (বেয়ারস্টো ১১২, বিলিংস ৫৭, ওকস ৫৩*; জ্যাম্পা ৩/৫১, স্টার্ক ৩/৭৪)। অস্ট্রেলিয়া : ৪৯.৪ ওভারে ৩০৫/৭ (ম্যাক্সওয়েল ১০৮, ক্যারে ১০৬; ওকস ২/৪৬, রুট ২/৪৬)। ফল : অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে ম্যাচ ও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী। ম্যাচ ও সিরিজসেরা : গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।