খিলক্ষেতের বাসা থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

রাজধানীর খিলক্ষেত নিকুঞ্জ এলাকার একটি বাসা থেকে শায়লা পারভিন জুঁই (২৭) নামে এক গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে নিকুঞ্জ-২, রোড ৮, ৪২ নম্বর বাসা থেকে ওই নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার আলীপুর খা পাড়া গ্রামের মৃত লাল মিয়া খানের মেয়ে শায়লা। পরিবার নিয়ে নিকুঞ্জের ৬তলা বাসার নিচ তলায় স্বামী তরিকুল ইসলাম জনির সাথে ভাড়া থাকতেন।

নিহতের মেজো ভগ্নিপতি মো. আলমগীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, শায়লা ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ম্যানেজমেন্টে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেছে। প্রায় ৫ বছর আগে অনার্সে অধ্যয়নকালে তাদের বিয়ে হয়। জাইফ নামে তাদের ৩ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তার স্বামী জনি একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার। নিকুঞ্জের ওই বাসায় ছেলেকে নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী থাকতেন। একই ভবনে থাকেন বড়বোন কেয়া ও কেয়ার স্বামী আলম মিয়া।

আলমগীর হোসেন আরও জানান,  বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে শায়লা তার স্ত্রীকে (শায়লার মেজো বোন) ফোন দিয়ে মন খারাপের কথা বলেন। কারণ প্রকাশ না করলেও তার যে কোনো সমস্যা চলছিল তা বোঝা গেছে। এরপর শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে শায়লার বড় বোন জামাই আলম মিয়া আমাদের ফোন দেওয়ার পর আমরা ওই বাসায় গিয়ে শায়লাকে ফ্লোরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পাই। মুখ উপুড় হয়ে পড়ে ছিল সে। তার নাক মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল তখন। শরীরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আর উপরে ফ্যানের সাথে ওড়না ঝোলানো ছিল।

তিনি বলেন, তবে স্বামী আমাদের কাছে দাবি করেছে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছিল। এরপর রাত ১২টার দিকে শায়লা ভেতরের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। আর সারা রাত দরজা খোলেনি। এরপর শুক্রবার সকালে সে তালা-চাবিওয়ালাকে এনে দরজা খুলে ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখেন শায়লাকে। এরপরই পুলিশে খবর দেয় সে। স্বজনদের অভিযোগ, এটা নিশ্চিত হত্যাকাণ্ড। তা না হলে শায়লার শরীরে এতো আঘাত আসলো কীভাবে।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মো.  বোরহান উদ্দিন বলেন, মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্বামীর মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। 

সুরতহাল প্রতিবেদনে খিলক্ষেত থানার  এসআই  মো.  সজিব হোসেন রাজু উল্লেখ করেন, মৃতদেহের নাকে ও ঠোঁটে রক্ত ও লালচে দাগ, বাম চোখের নিচে কালো জখম, গলার বাম পাশে কালো দাগ রয়েছে।