সুশান্তর নাম ব্যবহার করে সুবিধা নিচ্ছে কঙ্গনা: সোনা মহাপাত্র

চূড়ান্ত সুবিধাবাদী! সুশান্তর নাম ব্যবহার করে হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী হওয়ার চেষ্টা করছেন? কঙ্গনা রনৌতের দিকে এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন সোনা মহাপাত্র।

এ গায়িকা বরাবরই স্পষ্টবাদী। তার ক্ষুরধার বচন থেকে বাদ যান না কেউই! সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু নিয়ে বিগত তিন মাস ধরে চলা ইস্যুতে কঙ্গনা যেভাবে ইন্ডাস্ট্রির একের পর এক ব্যক্তিকে কটাক্ষ করছেন, এবার সেই প্রসঙ্গেই সরব হলেন সোনা। প্রশ্ন ছুড়লেন, একজনের দুঃখজনক মৃত্যুকে ব্যবহার করে কেন ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন?

সোনার সাফ মন্তব্য, “সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলার অভিনয় করে ক্রমাগত নিজের খারাপ সত্তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন কঙ্গনা। অন্যকে গোল্ড ডিগার, মাফিয়াদের প্রতিনিধি, সস্তা কপি, সফট পর্নস্টার বলছেন? আবার নিজেই তো সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলার অভিনয় করে সুযোগ-সুবিধা খুঁজতে ব্যস্ত! এসব করে সততা, ন্যায়বিচারের কিংবা হিন্দু সংস্কৃতির ধ্বজাধারী হতে পারবেন না আপনি!”

সুশান্তর মৃত্যুর বিচার প্রসঙ্গ এই মুহূর্তে অনেকটা আড়ালে পড়ে গেছে। ‘ফোকাস’ সরে গিয়ে তা এবার বলিউডের ‘কনট্রোভার্সি কুইন’ কঙ্গনার ওপর। তিনিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিজেপির প্রতি ঝুঁকে শিবসেনাকে কদর্য আক্রমণ, সংসদে মাদক মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রবীণ বলিউড অভিনেত্রী জয়া বচ্চনকে একহাত নেওয়া থেকে ঊর্মিলা মাতবরকে ‘সফট পর্নস্টার’ বলা, বাদ রাখেননি কিছুই। আর তার রেশ ধরেই বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলে কঙ্গনাকে নিয়ে বেজায় শোরগোল শুরু হয়েছে।

এ দিকে কঙ্গনারই করা এক টুইটের সূত্র ধরে তাকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় গিয়ে চীনের সেনাকে পিছু হটিয়ে দেশকে রক্ষা করার ‘উপদেশ’ দিয়ে কটাক্ষ ছুড়লেন পরিচালক অনুরাগ কশ্যপ। চুপ করে থাকার পাত্রী নন কঙ্গনাও।

১৭ সেপ্টেম্বর এক টুইটে কঙ্গনা লেখেন, ‘‘আমি একজন ক্ষত্রিয়। গর্দান দিতে পারি, কিন্তু মাথা নিচু করতে পারব না। দেশের সম্মানের স্বার্থে সব সময়েই মুখ খুলব। আত্মসম্মানের সঙ্গে বেঁচে এসেছি এবং গর্বের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী হয়েই বেঁচে থাকব। কখনই নিজের নীতির সঙ্গে আপস করব না। জয় হিন্দ।’’

যার জবাবে কটাক্ষ ছুড়ে অনুরাগ লেখেন, ‘‘বোনটি, তুমি একাই! একমাত্র মণিকর্ণিকা! চার-পাঁচ জনকে সঙ্গে নিয়ে চীনের সঙ্গে লড়াই করো। দেখ চীন দেশের কতটা ভেতরে ঢুকে পড়েছে। দেখিয়ে দাও তাদেরও যে, যখন তুমি রয়েছ, তখন কেউ ভারতের এক চুলও ক্ষতি করতে পারবে না! তোমার বাড়ি থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ওই অঞ্চলে পৌঁছতে মাত্র এক দিন সময় লাগে। যাও বাঘিনী। জয় হিন্দ।’’

কটাক্ষের জবাবে কঙ্গনার পাল্টা টুইট, ‘‘ঠিক আছে, আমি সীমান্তে যাচ্ছি। আপনিও সামনের বছর অলিম্পিকে চলে যান, দেশের স্বর্ণপদক প্রয়োজন... আপনি তো দেখছি রূপকেও আক্ষরিক অর্থ খুঁজছেন। এত নির্বোধ হয়ে গিয়েছেন কবে থেকে?  আমরা যখন বন্ধু ছিলাম, তখন তো বেশ বুদ্ধিমান ছিলেন!’’ এর পরে অবশ্য চুপ করে থাকেননি অনুরাগও। তার টুইট, “বোনটি, তোমার জীবনটাই এখন রূপকের রূপ নিয়েছে!” সঙ্গে রাজনৈতিক খোঁচাও জুড়ে দেন তিনি।