কুষ্টিয়ায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনে গৃহবধূ তাসনীম মীম হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১০টায় শহরের মজমপুর গেট এলাকায় সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কুষ্টিয়া শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম।
কর্মসূচিতে মীমের পরিবারসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, এখনো যদি মীমের মতো একজন উচ্চ শিক্ষিত গৃহবধূকে স্বামীর সংসারে নির্মম যৌতুক নির্যাতনে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে বিচারের জন্য রাজপথে দাঁড়াতে হয় তাহলে দেশ এগোচ্ছে না পেছাচ্ছে? নারী নির্যাতনের প্রতিটা ঘটনার পরই তার বিচার চাইতে এখন রাজপথে দাঁড়িয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করাটা যেন আমাদের ভবিতব্যের সঙ্গে অঙ্গীভূত হয়ে গেছে।
অবিলম্বে মীম হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি করেন বক্তারা।
নিহত মীমের বাবা কামিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী মহিবুল আলামের অভিযোগ, ঘটনার দুই দিন পূর্বে মীমের স্বামী দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া গ্রামের মৃত জিন্না মোল্লার ছেলে এজাজ আহমেদ বাপ্পী আমার বাড়ি থেকে মীমকে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় কীভাবে যাবে ওই সব নিয়ে কথা উঠে।
এ সময় মীমের শাশুড়ি কহিনুর খাতুন আমাকে মোবাইল করে বকাবকি বলে বলেন, ‘আপনার জামাইকে মোটরসাইকেল দেয়ার কথা ছিল, সেটা তো দিলেন না? এখন ওরা বাড়ি আসবে কীভাবে’? যদিও মোটরসাইকেল কেনা বাবদ পূর্বেই তাকে এক লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন মীমের বাবা মহিবুল।
দুইদিন পরই মীমকে শাশুড়ি কহিনুর এবং স্বামী বাপ্পীর যোগসাজশে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে অচেতন অবস্থায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়।
এ সময় মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
মানব বন্ধনে দাবির বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জহুরুল আলম বলেন, মীমের বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের ধারায় নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এনে ৪ জনের নামোল্লেখসহ মামলা করেছেন। পুলিশ তদন্ত করছে, এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাক তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।