যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা অ্যানা শহরের ২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর জন্য ওয়াই-ফাই রাউটারসমৃদ্ধ একটি মিনি ভ্যান ঘুরে বেড়ায়। করোনাভাইরাসের এই মহামারীর সময়ে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সুবিধা দিতেই স্যাটেলাইট অ্যান্টেনাসহ ওই মিনি ভ্যানটি ঘুরে বেড়ায়। ওয়াই-ফাই অন হুইল নামক প্রকল্পের আওতায় সুবিধাবঞ্চিতদের এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের পরিচালক রোমান রেইনা এএফপিকে বলেন, ‘গত মাসে জেলা স্কুল কর্র্তৃপক্ষ যখনই নতুন স্কুল বছরের ঘোষণা দিয়েছে, তখন কিছু অভিভাবক তাদের সন্তানদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান। আমাদের অনেক শিক্ষার্থীরই ওয়াই-ফাই সুবিধা নেই। ফলে তাদের পক্ষে স্কুলগুলোর শিক্ষকদের বার্তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।’ ওয়াই-ফাই অন হুইলকে সহযোগিতা করছে জেএফকে ট্রান্সপোর্টেশন।
কোম্পানিটির প্রধান কেভিন ওয়াটসন বলেন, ‘আমরা ভ্যান আট ঘণ্টা ধরে পার্ক করে রাখি। যাতে ওই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকতে পারে। ৩৫০ মিটারের মধ্যে যেসব শিক্ষার্থী থাকবেন, তারাই এই সেবা পাবেন।’ লকডাউনের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হলে যখন অনলাইনে পড়ালেখার সিদ্ধান্ত হয়, তখনই মূলত জেএফকে ট্রান্সপোর্টেশন এমন সিদ্ধান্ত নেয়। শিক্ষার্থীরাই যাতে এই ওয়াই-ফাই সুবিধা পেতে পারে তা নিশ্চিতে রাখা হয়েছে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থা, যা শুধু নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের কাছেই থাকবে। ওয়াটসন আরও বলেন, ‘আমাদের ওয়াই-ফাইয়ের রাউটারগুলো সব ফাইভজি এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন। প্রতিটি ভ্যান অন্তত ২০০ জন শিক্ষার্থীকে একযোগে ইন্টারনেট দিতে পারে। প্রকল্পের আওতায় এখন সাতটি ভ্যান পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হচ্ছে।’ স্কুলগুলোর সঙ্গে কথা বলে ওই অঞ্চলে প্রায় ৫০টির মতো ভ্যান চালু করার ব্যাপারে চিন্তা করছে কোম্পানিটি। সান্তা অ্যানা মূলত অভিবাসী পরিবার-অধ্যুষিত অঞ্চল। এরা অর্থনৈতিকভাবে অতটা ভালো অবস্থায় থাকে না যে ইন্টারনেট সুবিধা পাবে। শহরটির প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ইন্টারনেটবঞ্চিত।
সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট অনুসারে, লস অ্যাঞ্জেলেসের ২৫ শতাংশ (প্রায় ১৫ লাখ) শিক্ষার্থীর পর্যাপ্ত ইন্টারনেট ও ডিভাইস নেই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার জন্য। দেশটির অন্য রাজ্যগুলোর অবস্থাও একই। ইন্টারনেটের অতিমূল্যের কারণে সবার পক্ষে বাড়িতে ওয়াই-ফাই নেওয়া সম্ভব হয় না। দেশটিতে মাসে ইন্টারনেটের জন্য গড়ে ৬০ ডলার দিতে হয়, যা সবার পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয় না। মিসিসিপি রাজ্যের মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেকই ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে বাস করে।