যা আছে ধর্ষণ মামলার অভিযোগে, যা বললেন নুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী।

রবিবার রাতে লালবাগ থানায় মামলাটি করা হয়। অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এজহারে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের হাসান আল মামুন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সুবাদে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয় ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই। নিজ বিভাগের সিনিয়র হওয়ায় আসা-যাওয়ার ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের একপর্যায়ে তার সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় আমার সঙ্গে তার বিভিন্ন সময়ে ম্যাসেঞ্জার, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কথা হয়। সেখানে আমাকে শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। গত ৩ জানুয়ারি দুপুরে হাসান আল মামুন আমাকে তার রাজধানীর নবাবগঞ্জ, মসজিদ রোড, লালবাগের একটি বাসায় যেতে বলে। সেখানে যাওয়ার পর আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে।’

এজহারে ওই ছাত্রী আরো বলেন, ‘ঘটনার পর ৪ জানুয়ারি আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। ১২ জানুয়ারি আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় মামুনের বন্ধু সোহাগের মাধ্যমে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আমি বিভিন্ন গণমাধ্যমের ক্যাম্পাস রিপোর্টারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে মামুন ও সোহাগ তা হতে দেয়নি। এর আগে মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে রাজি হয়, কিন্তু আমি অসুস্থ হওয়ার পর সে নানা টালবাহানা শুরু করে।’

এজহারে ওই ছাত্রী বলেন, ‘উপায় না দেখে ২০ জুন ভিপি নূরুল হক নুরুকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানাই। তিনি বলেন মামুন আমার পরিষদের ও আমার সহযোদ্ধা। তার সঙ্গে বসে একটা সুব্যবস্থা করে দেব। এরপর ২৪ জুন মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে তিনি আমার সঙ্গে নীলক্ষেতে দেখা করতে আসেন। কিন্তু মীমাংসার বিষয়টি এড়িয়ে আমাকে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। তিনি আমাকে হুমকি বলেন, আমি যদি বাড়াবাড়ি করি তাহলে তার ভক্তদের দিয়ে ফেসবুকে আমার নামে উল্টাপাল্টা পোস্ট করাবে এবং আমাকে পতিতা বলে প্রচার করবে। তাদের ছাত্র অধিকার পরিষদের ১ দশমিক ১ মিলিয়ন সদস্যের গ্রুপে এ প্রচারণার হুমকি দেওয়া হয়। নুরুল হক আমাকে আরো বলেন, তার একটি লাইভে আমার সব সম্মান চলে যাবে। ইতিমধ্যে মামলার ৪ নম্বর আসামি সাইফুল ইসলাম আমার নামে কুৎসা রটিয়েছে এবং ৫ ও ৬ নম্বর আসামিকে লাগিয়ে দেয় কুৎসা রটাতে। তারা ম্যাসেঞ্জার চ্যাট গ্রুপে আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করাসহ সম্মিলিতভাবে চক্রান্ত করে।’

অভিযোগে ওই ছাত্রী আরও বলেন, ‘ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা পর্যায়ের কয়েকজন বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করতে চাইলেও আসামিরা তাদের ষড়যন্ত্রকারী বলে অ্যাখ্যা দেয়। এরপর আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মামলা করায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।’

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমি দীর্ঘ দিন ধরে সরকারের নানা স্বৈরাচারি কর্মকাণ্ড ও ব্যর্থতার প্রতিবাদ করে আসছি। এ ধরনের নোংরা কর্মকাণ্ডে আমাকে জড়িয়ে মামলা করার অর্থই হলো আমাকে দমন করার অপচেষ্টা। সরকারের ষড়যন্ত্রের কারণেই এ ধরনেরর একটি মামলায় আমাকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে। অথচ যে শিক্ষার্থীকে দিয়ে মামলা করানো হয়েছে তাকে আমি চিনি না, তার নামও জানি না। এ ধরনের ষড়যন্ত্র করে আমাকে দমন করা যাবে না।’

এ মামলার আসামিরা হলেন হাসান আল মামুন, নাজমুল হাসান, নুরুল হক নূর, মো. সাইফুল ইসলাম, নাজমুল হুদা ও আবদুল্লাহ হিল বাকি। এদের মধ্যে হাসান আল মামুন ও নূরের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার প্রতিবাদে ছাত্র অধিকার পরিষদ সোমবার সন্ধ্যার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সেখানেও নুরুল হক নুর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মামলাকে সরকারের ষড়যন্ত্র বলে বক্তব্য রাখেন। 

২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র নুর আলোচনায় আসেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে। এই আন্দোলন তাকে দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। এরপর তিনি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে ডাকসু নির্বাচন করে ভিপি নির্বাচিত হন। সম্প্রতি তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেন। ঢাকার একটি উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেন নুর।