যাত্রীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে নিয়োজিত সব সংস্থার কর্মীদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে বলে মনে করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
মঙ্গলবার ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা নিয়ে গণশুনানিতে এ কথা বলেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান।
বিমানবন্দরের কর্মীদের আচরণ নিয়ে সাংবাদিকদের অভিযোগের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবহারে পরিবর্তন আনতে হবে। এটা একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এখানে যারা কাজ করবে তাদের প্রত্যেককের আচার-ব্যবহারও আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। আমরা প্রতিটি সংস্থার লোকজনকে সব সময় বলি যাত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে।
বিমানবন্দরের পুলিশ, ইমিগ্রেশন, কাস্টমসসহ সব সংস্থার প্রতিনিধিদের যাত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার অনুরোধ করেন তিনি।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের এ বিষয়ে শিক্ষিত করতে হবে। যেন হাসি মুখে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন সবাই, বলেন বেবিচক চেয়ারম্যান।
বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জমির অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।
সৌদি আরবে ফ্লাইট প্রসঙ্গে এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, এত দিন সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের আকাশপথে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই ফ্লাইট শুরু করেছে। আমরা চাচ্ছিলাম সৌদি আরব থেকেও ফ্লাইট শুরু হোক।
বিমানবন্দরের যাত্রীদের অভিযোগ, পরামর্শ শুনতে এ গণশুনানির আয়োজন করা হলেও সেখানে মাত্র দুইজন যাত্রী ছিলেন। গণশুনানি শুরুর আগে ১০-১২ জন যাত্রীকে শুনানিতে অংশ নিতে নিয়ে আসেন বিমানবন্দরের কর্মীরা। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই চলে যান তারা।
পরবর্তীতে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক ও বিমানবন্দরে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
গণশুনানিতে যাত্রীদের উপস্থিতি না থাকা প্রসঙ্গে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, এখন কম ফ্লাইট কম, তাই যাত্রীও কম। যেসব যাত্রী বিমানবন্দরে আসেন তারা আসলে মিটিংয়ে যোগ দেওয়ার মাইন্ডসেট নিয়ে আসেন না, তাদের টার্গেট কখন ফ্লাইটে উঠবেন। দুই-একজনকে অনুরোধ করে নিয়ে আসা হয়, যদি তারা কোনো অভিযোগ জানাতে চান।
গণশুনানিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর মো. খালিদ হোসেন, সদস্য (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান, সদস্য (নিরাপত্তা) মো. শহীদুজ্জামান ফারুকী, সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল মালেক, বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের কমান্ডিং অফিসার মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম খান, এওসি চেয়ারম্যান দিলারা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।