স্ত্রীর ‘স্বপ্নাদেশ’ হাতি কিনলেন কৃষক দুলাল

লালমনিরহাট সদরে স্ত্রীর স্বপ্নাদেশ পূরণে দুলাল চন্দ্র রায় নামে এক কৃষক হাতি কিনেছেন। এজন্য তার লেগেছে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা। আর এই টাকা জোগাড়ে দুলাল বিক্রি করেছেন ৩ বিঘা জমি।

সম্প্রতি জেলার সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রথিধর দেউতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হাতি কেনার ঘটনা এখন সবার মুখে মুখে। প্রত্যেক দিন দূরদূরান্ত থেকে লোকজন দুলালের বাড়িতে ভিড় করছেন।

এর আগেও দুলাল স্ত্রী তুলসী রানী দাসের স্বপ্নাদেশ পূরণে ছাগল, রাজহাঁস ও ঘোড়া কিনে লালন-পালন করছেন। আট বছর বয়সী মাদি হাতিটি তিনি মৌলভীবাজার থেকে কিনেছেন। হাতির আগের মালিক মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের রাজকান্দির আবদুল করিম এটি বিক্রির জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিলেন। লোক মারফত খোঁজ পেয়ে দুলাল চন্দ্র গত সপ্তাহে এটি কিনেন এবং ট্রাকে লালমনিরহাট আনতে তার আরও ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। কলাগাছ ছাড়াও হাতিটিকে প্রত্যেক দিন ৩ কেজি ভুসি, ২ কেজি গুড় ও ২ কাঁদি কলা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে দুলাল চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমার ধার্মিক স্ত্রী তুলসী পরমেশ্বরের স্বপ্নাদেশ পেয়ে আমাকে হাতি পালনের মাধ্যমে সেবা করতে বলেছে, না হলে পরমেশ্বর খুশি হবেন না। স্ত্রীর স্বপ্নাদেশ পূরণে জমি বিক্রির টাকা দিয়ে হাতিটা কিনেছি। ১৫ হাজার টাকা বেতনে হাতিটি দেখাশোনা করবেন মৌলভীবাজার থেকেই আসা মাহুত ইব্রাহীম মিয়া।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরমেশ্বরের নির্দেশে আগেও স্ত্রীকে ঘোড়া, ছাগল ও রাজহাঁস কিনে দিয়েছি। এবারও তার স্বপ্নাদেশ পূরণ করতে পেরে ভালো লাগছে, আমি তাকে খুব ভালোবাসি।’

এক ছেলে ও এক মেয়েসহ চার সদস্যের সংসার দুলাল ও তুলসী দম্পতির। বাড়িতে একটি টিনের চালা ও একটি মাটির তৈরি ঘর রয়েছে। কৃষিজমি আবাদ করেই চলে তাদের সংসার।

তুলসী রানী বলেন, ‘দেবতা মহাদেব ও বিশ্বকর্ম্মা স্বপ্নে নির্দেশ করেছেন- হাতি কিনে তার যত্নাআত্তি নিতে। এরপর স্বামীর কাছে বায়না ধরলে সে হাতিটি কিনে দেয়। দেবতা যতদিন হাতিটিকে রাখতে বলবেন, ততদিন আমাদের বাড়িতেই সে থাকবে।’