সিলেটে চাকরিজীবী স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিমাদ্রি পালকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার তিনি সিলেটের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ বজলুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। হিমাদ্রি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সেনগ্রামের হলধর চন্দ্র পালের ছেলে।
মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট রাতে হিমাদ্রি পালের স্ত্রী পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর লাকি রানী পাল (৩৫) স্বামীর বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তার মৃত্যু হয়। এই দম্পতির একটি শিশুসন্তান রয়েছে। লাকির মৃত্যুর পর শ^শুরবাড়ির লোকজন দাবি করেন, রান্না করার সময় দুর্ঘটনাবশত লাকি অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন।
কিন্তু তাদের এ দাবি মেনে নেয়নি লাকির বাবার বাড়ির লোকজন। ১৭ আগস্ট লাকির ছোট বোন প্রিয়াঙ্কা পাল মোগলাবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় লাকির স্বামী হিমাদ্রি পাল, দেবর হিমেল পাল, শ^শুর হলধর চন্দ্র পাল ও শাশুড়ি শিখা রানী পালকে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, লাকির বেতনের পুরো টাকা স্বামী-শ্বশুর নিয়ে যেতেন। তার হাত খরচের টাকাও তাদের কাছ থেকে চেয়ে নিতে হতো। পাশাপাশি বাবার বাড়ি থেকে আরও টাকা আনার জন্য লাকির ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে স্বামী, দেবর ও শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন জানান, আসামি হিমাদ্রি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার শর্তে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনা ছিল। বুধবার তিনি হাজির হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।