দ্বিতীয় অধ্যায় : ইবাদত
বর্ণনামূলক প্রশ্ন
১. হজের ফরজ কয়টি? হজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য লেখো।
২. মুখ, দাঁত, হাত ও পা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্ব বর্ণনা করো।
৩. কোরবানি প্রচলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ণনা করো।
৪. সব ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি উদার, সহিষ্ণু ও সহনশীল হওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে ৬টি বাক্য লেখো।
উত্তর
১. হজের ফরজ ৩টি।
হজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য :
ক. হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। প্রত্যেক সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান ও সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ।
খ. হজ বিশ্ব মুসলমানের মহা সম্মেলন।
গ. হজ বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্যের এক অপূর্ব পুলক শিহরণের জায়গা।
ঘ. ইসলামের ঐক্য, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও প্রাণচাঞ্চল্য বজায় রাখার ব্যাপারে হজের তাৎপর্য অপরিসীম।
ঙ. হজ গুনাহ মাফের একটি সর্বোত্তম মাধ্যম। হজ মানবজীবনের গুনাহগুলো ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয়।
২. পরিচ্ছন্নতা বা পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ। নিচে মুখ, দাঁত, হাত ও পা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো
মুখ : মুখ আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মুখ পরিষ্কার না থাকলে মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। মানুষ তাকে ঘৃণা করে।
দাঁত : আমরা দাঁত দিয়ে চিবিয়ে খাবার খাই। এতে দাঁতের ফাঁকে খাদ্যকণা লেগে থাকে। দাঁতের নানারকম রোগ হয়। দাঁত পরিষ্কার রাখার জন্য ওজু করার আগে এজন্য মিসওয়াক করতে হয়।
হাত : আমরা হাত দিয়ে নানারকম কাজ করি। এতে হাত ময়লা হয়, নোংরা হয়। হাতের নখ বড় হলে বড় নখে অনেক ময়লা আটকে থাকে। নোংরা হাতে খাবার খেলে খাবারের সঙ্গে ময়লা পেটে চলে যায়। এতে নানারকম পেটের অসুখ হয়। খাওয়ার আগে ও পরে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। পায়খানা প্রস্রাব থেকে ফিরে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
পা : রাস্তাঘাটে চলাফেরা করার সময় আমাদের পায়ে ধুলাময়লা লাগে। পা নোংরা হয়ে যায়। কাজের শেষে পা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়।
সুতরাং আমরা আমাদের মুখ, দাঁত, হাত, পা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখব।
৩. কোরবানি প্রচলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
নবী হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে মহান আল্লাহ পরীক্ষা করার জন্য স্বপ্ন দেখালেন, আল্লাহ তাকে আদেশ করছেন প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি করতে। তিনি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে প্রিয় পুত্রকে কোরবানি করতে চাইলেন। পুত্র ইসমাইলও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে চাইলেন। তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। আল্লাহতায়ালা তাদের কোরবানি কবুল করলেন এবং ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে গেল। আল্লাহতায়ালা তাদের ওপর সন্তুষ্ট হলেন। এ ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে কোরবানি প্রথার প্রচলন হয়।
৪. ইসলাম ধর্মে অন্যান্য ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সহনশীল হতে বলা হয়েছে। নিম্নে এর গুরুত্ব উল্লেখ করা হলো
ক. অন্য ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের শ্রদ্ধা করলে তারাও আমাদের ধর্মকে শ্রদ্ধা করবেন।
খ. ইসলাম শান্তির ধর্ম। অন্য ধর্ম শ্রদ্ধা করলে তারই প্রমাণ পাওয়া যায়।
গ. সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না।
ঘ. উদারতা ও সহিষ্ণুতার কারণে ইসলাম ধর্ম অনেক আগে থেকেই সবার কাছে সমাদৃত।
ঙ. সবাই ইসলাম ধর্মের উদারনীতি সম্পর্কে জানতে পারবে।
চ. আমরা অন্য ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি উদার, সহিষ্ণু ও শ্রদ্ধাশীল হতে শিখবো। অন্যকেও শেখাবো। এতে মহান আল্লাহ আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন।