চাল বিতরণে বায়োমেট্রিক

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) চাল বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতি ঠেকাতে ‘প্রথমবারের মতো’ বায়োমেট্রিক পদ্ধতির ব্যবহার শুরু করেছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসন। গত কয়েকদিন ধরে চালু হয়ে এলেও শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিব হাসান। তার ভাষ্য, সম্প্রতি বিচ্ছিন্ন কয়েকটি চাল কেলেংকারির পরিপ্রেক্ষিতে দেশে এই প্রথমবারের মতো ব্যবস্থাটি নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থায় আঙুলের ছাপসহ ১৩টি ডাটা সংরক্ষণের মাধ্যমে সঠিক ব্যক্তি নির্ণয় করা হবে।

জানা যায়, চলমান করোনা মহামারীর মধ্যেও ওএমএসের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দেবিদ্বারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় চাল নিয়ে কেলেংকারির খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ও জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীরের সঙ্গে পরামর্শ করে ‘ওএমএস দেবিদ্বার’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেন ইউএনও রাকিব হাসান। এতে উপকারভোগীর নাম, ঠিকানা, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, আঙুলের ছাপসহ ১৩ ধরনের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। নতুন এ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে উপকারভোগীকে আসল-নকল যাচাই করে চাল দেওয়া হয়। বায়োমেট্রিক পদ্ধতি হওয়ায় একই ব্যক্তি একাধিকবার কিংবা একজনের চাল আরেকজন উত্তোলন করতে পারবেন না। জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর, ডিজিটাল আইডি নম্বর দিয়ে ব্যবস্থাটিতে (সিস্টেম) প্রবেশ করা মাত্রই তার ছবিসহ যাবতীয় তথ্য প্রদর্শিত হয়। শুধু তাই নয়, উপকারভোগীর চাল উত্তোলনের তথ্য কেন্দ্রীয় তথ্যভা-ার বা সার্ভারেও জমা হয়।

এ বিষয়ে ইউএনও রাকিব হাসান বলেন, ‘অনেকের নামেই কার্ড করা হয়েছে। অথচ তারা জানেনই না, বছরের পর বছর তাদের নামে চাল তোলা হচ্ছে।