বেলারুশে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপি বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর পদত্যাগের দাবিতে টানা বিক্ষোভের ৫০তম দিন পার করল দেশটির জনগণ।
বিবিসি জানায়, রবিবার বিক্ষোভের ৫০তম দিনেও সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। প্রতি সপ্তাহের মতো এদিনও লাখো মানুষের সমাবেশ ঘটে।
অধিকার সংগঠনগুলোর সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষোভ থেকে ৫০ জনেরও বেশি লোককে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
দেশটির পশ্চিমে গোমেল শহরে বিক্ষোভ দমনে টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীদের মুখে সরাসরি স্প্রে করছে পুলিশ।
বিক্ষোভে নারীদের বিপুল উপস্থিতিও দেখা গেছে। লুকাশেঙ্কোকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেন তারা।
৯ আগস্ট নির্বাচনে অভাবনীয় ব্যবধানে জিতে ফের ক্ষমতায় আসেন লুকাশেঙ্কো। তবে তার বিরুদ্ধে ভোটচুরি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ শুরু করে বেলারুশের মানুষ।
লুকাশেঙ্কোর পদত্যাগের দাবিতে লক্ষাধিক মানুষের একাধিক সমাবেশে কেঁপে উঠে মিনস্ক। নিরাপত্তা বাহিনী শক্তি প্রয়োগ ও নির্বিচারে গ্রেপ্তার চালালেও বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে বেলারুশবাসী।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সেতলানা তিখনভস্কায়াক নিজেকে বিজয়ী দাবি করেন। এর অল্প সময় পরই তাকে লিথুনিয়ায় পালাতে বাধ্য করা হয়।
বিক্ষোভের সামনে থাকা ওপর নেত্রী ভেরোনিকা তসেপকালোও দেশ ছেড়েছেন ইতিমধ্যে। তবে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়া আরেক নারী মারিয়া কোলেস্নিকোভাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৯২ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বেলারুশ। এর মাত্র দুই বছর পর দেশটির ক্ষমতায় আসেন লুকাশেঙ্কো। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬ বছর ধরে দেশের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তিনি। তাকে বলা হয় ইউরোপের শেষ স্বৈরাচার।
একের পর এক বিক্ষোভে ভিত নড়ে উঠলেও ক্ষমতায় অটল লুকাশেঙ্কো। রাশিয়ার সরাসরি সমর্থনে বিক্ষোভ দমনেও সচেষ্ট তিনি।
এর মধ্যে গত সপ্তাহে বুধবারে অনেকটা তড়িঘড়ি করে ষষ্ঠবারের মতো প্রেসিডেন্টের শপথ নেন লুকাশেঙ্কো।
তবে যুক্তরাষ্ট্রস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তারা লুকাশেঙ্কোকে বেলারুশের বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না।