অষ্টম শ্রেণি পাস করে শিক্ষার্থীদের গতিপথ পাল্টে যায়। কেউ বিজ্ঞান, কেউ মানবিক, কেউ ব্যবসায় শিক্ষা বা কমার্সের পথ ধরে। সচেতন শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই বুঝেশুনে ঠিক করে নিজের গতিপথ। আজ আমরা জানব কমার্সে পড়ার সুযোগ-সুবিধাগুলো। লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিবিএ শিক্ষার্থী ফখরুল ইসলাম
সৃজনশীল বিষয়
ব্যবসায় শিক্ষা কাঠখোট্টা নয়, বরং খুবই ইন্টারেস্টিং একটা বিভাগ। এখানে মুখস্থ করার মতো বিরক্তিকর কিছুই নেই। মুখস্থ করে ভালোও করা যায় না। হিসাববিজ্ঞান একটু মন দিয়ে চর্চা করলেই এটি তোমার প্রিয় বিষয় হতে বাধ্য।
সহশিক্ষা কার্যক্রম
কমার্সের পড়াগুলো একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ে ফেললেই দেখবে, তোমার হাতে অফুরন্ত সময়। অন্যরা যখন ব্যবহারিক খাতা নিতে দৌড়াদৌড়ি করবে, তুমি তখন সহশিক্ষামূলক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে পারবে। বিতর্ক, নাচ-গান, আবৃত্তিসহ সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকবে তুমি।
আন্তঃবিষয় সম্পর্ক
এখানে একটা বিষয়ের সঙ্গে অন্য বিষয়ের অনেক মিল পাওয়া যায়। প্রত্যেকটি বিষয় সম্পর্কযুক্ত। তাছাড়া সম্পূর্ণ নতুন হওয়ায় বিষয়গুলো সলভ করতে বোরিং লাগে না।
সহজে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি
দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সায়েন্সের তুলনায় কমার্সের শিক্ষার্থীরা অধিক সহজে ভর্তি হতে পারে। তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি সিট বরাদ্দ থাকে। তাই কম পরিশ্রমে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যায়।
দ্রুত ক্যারিয়ার গঠন
ইউনিভার্সিটি থেকে কমার্সের কোনো বিষয়ে ভালো করে পড়লে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার আগেই চাকরি তোমার দরজায় নক করবে। সাবজেক্ট নিয়েও কোনো হতাশা তোমার থাকবে না। কারণ ব্যবসায় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব সাবজেক্টই ডিমান্ডেবল। তাই বিসিএসের টেনশনও থাকবে না। সম্মানজনক একটি জব শিগগির পেয়ে যাবে নিশ্চিত থাকতে পার।
বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা
এই বিষয়গুলো তোমাকে স্বনির্ভর হতে শেখাবে। কীভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হয় কমার্সের শিক্ষার্থীরা ভালো করেই জানে। গ্রুপভিত্তিক নানারকম প্রেজেন্টেশন ও রিপোর্ট রেডি করতে করতে তুমি যোগাযোগ ও প্রতিনিধিত্বমূলক কাজে দক্ষ হয়ে উঠবে। ব্যবসায় সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পাবে।
দেশসেবা
দেশের উন্নয়নে বিজ্ঞানের ভূমিকা যেমন অপরিসীম, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও ব্যাংকিং-বীমারও গুরুত্ব অপরিসীম। তাছাড়া একটি দেশ কখনো সমৃদ্ধিশালী হতে পারে না। কারণ বিজ্ঞান-গবেষণার পূর্বশর্ত হলো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি।