কাদাপানির কষ্ট দেখবে কে

পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড) সামনের সড়কের বেহাল অবস্থা। অল্প বৃষ্টিতেই কাদায় চলাচলে অনুপযোগী হয়ে যায় হাসপাতালে প্রবেশের প্রধান সড়ক। খানাখন্দ আর কাদাপানিতে ভরা পুরো সড়কে হেঁটে চলাই কষ্টকর। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকলে রিকশা বা গাড়ি চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। রিকশা বা গাড়ির চাকা গর্তে পড়ে কাত হয়ে যায়। হাসপাতালে আসা রোগী ও এলাকাবাসী বলছেন, এই সড়কে চলতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন তারা। এ অবস্থা চলছে তিন মাসের বেশি সময় ধরে।

মিটফোর্ড সড়কের পাশে উপশম ফার্মেসির কর্মচারী সাকিব আহমেদ বলেন, ‘দুদিন আগে ৫০০ টাকা খরচ করে দোকানের সামনে গর্ত ভরাট করেছি। সেটা আজই কাদায় একাকার। পথচারী, গাড়ি চলাচলের ময়লা ও কাদা দোকানে এসে পড়ে। ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। রাস্তার বেহাল দশার কারণে আমাদের ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

স্থানীয় পথচারী ফয়সাল বলেন, ‘তিন মাসের বেশি সময় ধরে রাস্তার এই দশা। হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার আতঙ্ক থাকে সব সময়। জনপ্রতিনিদের কোনো দায়িত্বই নেই মনে হচ্ছে এ বিষয়ে।’

মিটফোর্ড হাসপাতালের ইন্টার্ন ডাক্তার ফাহাদ হাসান বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে রিকশা ছাড়া যেতে পারি না। এতে বাড়তি টাকা গুনতে হয় আমাদের। ঝাঁকুনির কারণে রিকশা থেকে বেশ কয়েকজন ডাক্তারকে কাদাপানিতে পড়তে দেখেছি আমি।’ তিনি আরও বলেন, সড়কে দুটি অ্যাম্বুলেন্স পাশাপাশি যেতে পারে না। দুটি দুদিক থেকে এলে তখন আটক পড়ে। আবার পেছনে ঘোরানোর মতো জায়গা থাকে না। তিনি সড়কটি প্রশস্ত করার দাবি করেন।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিম বলেন, ‘আগের জনপ্রতিনিধি এ রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেছিলেন। আমরা নির্বাচিত হয়েছি বেশিদিন হয়নি। তারপর আবার করোনার থাবা। রোগী, পথচারী, ডাক্তারদের অসুবিধা সম্পর্কে আমরা জেনেছি। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে চকবাজার থেকে ইমামগঞ্জ জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের কাজ শেষ করব।’