রসায়নের নাম শুনলে অনেকেই আঁতকে ওঠে। তবে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজের সঙ্গে জড়িত এই বিদ্যা মোটেও কঠিন নয়। একটু চেষ্টা করলেই রসায়ন আয়ত্ত করা পানির মতো সহজ। রসায়নের কয়েকটি মজার তথ্য লিখেছেন ইউশা আসরার
পদার্থ এবং শক্তি
পদার্থ একটি উপাদান যা একত্রিত হয়ে ভৌত বস্তু গঠন করে। আর এই পদার্থ শক্তির রূপান্তর মাত্র। কিন্তু মজারবিষয় হলো, পদার্থ শক্তিতে এবং শক্তিকে পদার্থে রূপান্তরিত করা যায়। পদার্থের মধ্যে আবার থাকে অণু, যার ভেতর থাকে পরমাণু। একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে এই অণু-পরমাণু একত্রিত হয়ে একটি নতুন পদার্থ সৃষ্টি করে।
রসায়নের প্রকারভেদ
রসায়নের নানা শাখা আছে। রসায়নের এই অণু-পরমাণুর খেলা এতই বিস্তৃত যে প্রত্যেকটি শাখা যে যার কেন্দ্রবিন্দুতে সমুজ্জ্বল। নানান প্রকারভেদের মধ্যে প্রধান হলো, অরগানিক কেমিস্ট্রি, এনালাইটিকাল কেমিস্ট্রি, বায়ো-কেমিস্ট্রি এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রসায়ন
পৃথিবীতে বিজ্ঞানীরা নানারকম রাসায়নিক বিক্রিয়া সমাধান করে, ডাটা বিশ্লেষণ করে প্রাপ্ত উপাত্ত থেকে অনেক জটিল রহস্য সমাধানে সক্ষম হন। অনুসন্ধানের বস্তুর বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করাটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সহজ রাসায়নিক পরীক্ষা
এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য যে রসায়ন বিষয়টি শুনতে যতই ভয়ংকর হোক না কেন, এর পরীক্ষা পদ্ধতি কিন্তু জীববিজ্ঞান অথবা পদার্থবিজ্ঞানের মতো তত জটিল নয়। যেমন আমাদের প্রতিদিনের রান্নাবান্নাও কিন্তু আসলে রসায়ন।
তত্ত্বীয় রসায়ন
রসায়ন বিজ্ঞান শুধু পরীক্ষাগারেই সীমাবদ্ধ নয়। রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং পরীক্ষা শুরু করার আগে থিওরি ও মডেল সম্পর্কে ধারণা থাকাটা জরুরি। রাসায়নিক পরিমাপ, ডাটা বিশ্লেষণ কেমিক্যাল ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয়।
ব্যবহারিক ক্লাসের বাইরে
কেমিস্টদের কথা মনে হলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে অ্যাপ্রোন পরিহিত এমন এক ব্যক্তি যার চোখে সেফটি গ্লাস এবং হাতে গ্লাভস পরে কনিকেল ফ্লাস্কে কিছু তরল জাতীয় জিনিস ল্যাবে বসে নাড়াচাড়া করছেন। কিন্তু সত্যি হলো, রসায়নের খেলা কেমিস্টদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা রান্নাঘরে, ক্ষেত-খামারে, অফিসে রসায়নের ব্যবহার এবং পরীক্ষা করছি।
সর্বত্র রসায়ন
আমরা যা স্পর্শ দ্বারা অনুভব করি, যার স্বাদ ও গন্ধ নিতে পারি তার সবই পদার্থ অর্থাৎ রাসায়নিক বস্তু। একটা ক্ষুদ্র কণা থেকে বৃহৎ বস্তু সব কিছুতেই রাসায়নিক কণা বিদ্যমান।