বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বাদীর নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী।
তিনি জানান, মামলার বাদী ও নিহত রিফাতের বাবা আ. হালিম দুলাল শরীফের নিরাপত্তায় দুইজন অস্ত্রধারী পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে তাদের বাড়িও।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, রিফাতের বাবা ও তার পরিবারের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রিফাতের বাবার নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক দুজন গানম্যান তার সঙ্গে থাকবেন।
নিহত রিফাতের বাবা আ. হালিম দুলাল শরীফ বলেন, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় বরগুনা জেলা পুলিশের দুজন অস্ত্রধারী সদস্য আমার সঙ্গে থাকছেন। এ ছাড়া বাড়িতে পুলিশ সদস্যরা ডিউটি করবেন।
পুলিশ মোতায়েনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, রায়কে কেন্দ্র করে আমাদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম। সার্বক্ষণিক আমাদের সঙ্গে পুলিশ থাকায় আমাদের সে শঙ্কা দূর হয়েছে। এ জন্য বরগুনার পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সকল কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। এরপর বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে তারা। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই দিনই মারা যান।
গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাত হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই ভাগে বিভক্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। অন্যদিকে গত ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত।
এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক রয়েছেন। এছাড়াও নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ অপ্রাপ্তবয়স্ক ৮ আসামি উচ্চ আদালত এবং বরগুনার শিশু আদালতের আদেশে জামিনে রয়েছে।