চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নেওয়া প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আগামী ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এ লক্ষ্যে চলতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে ২৩টি রেগুলেটর স্থাপনের কাজ শুরু হবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে ২৫ হাজারেরও অধিক বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ও ৬০ হাজারেরও বেশি বিভিন্ন ক্যাটাগরির ব্লক তৈরি করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক কর্নেল কবিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। পাউবো থেকে রেগুলেটরের নকশা পেয়েছি। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে রেগুলেটর স্থাপনকাজ শুরু করব। ইতিমধ্যে সেখানে মালামাল নেওয়া শুরু হয়েছে। নকশা অনুসারে কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে এসব রেগুলেটর স্থাপন করা হবে। এ ছাড়াও এ প্রকল্পের অধীনে নগরীর নেভাল-২ এলাকায় ও শিকলবাহার কৈগ্রামে ব্লক তৈরি করা হচ্ছে।
পাউবো সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা/জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন’ শীর্ষক ওই প্রকল্পটি হাতে নেয় তারা। নানা কারণে প্রকল্পটি থমকে থাকার পর তিনবার সংশোধন করে অবশেষে গত বছরের ২৭ ফেব্রম্নয়ারি একনেক সভায় অনুমোদন পায়। পরে একই বছরের ৬ নভেম্বর প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয় পাউবোর। চুক্তি অনুযায়ী ‘ডেলিগেট’ পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনী। ১৬২০ কোটি ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত।
পাউবোর প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগরীর ৬০ লক্ষাধিক মানুষের পাশাপাশি হাটহাজারীর মদুনাঘাট ও তৎসংলগ্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুবিধা ভোগ করবেন। রেগুলেটরগুলোর স্থাপনকাজ শেষ হলে কর্ণফুলীর জোয়ার-ভাটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এতে নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই কমে যাবে।