যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে টিভি বিতর্কে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের আরবি শব্দ ‘ইনশাল্লাহ’ উচ্চারণ নিয়ে সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
আলজাজিরা জানায়, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জো বাইডেনের মধ্যে প্রথম বিতর্কটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিতর্কে জো বাইডেন উচ্চারণ করেন-‘ইনশাল্লাহ’। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বিপুলসংখ্যক ইউজার বিতর্কের বাইডেনের ওই অংশটুকুর ভিডিও শেয়ার করেছেন। অনেকে এ নিয়ে হাস্যরসও করেন।
সম্প্রতি ট্রাম্পের ১০ বছরের আয়কর না দেয়ার বিষয়টি ফাঁস হয়। মঙ্গলবারের বিতর্কে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ক্রিস ওয়ালেস বারবার ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, তিনি কবে আয়কর প্রদানের তথ্য প্রকাশ করতে পারেন। আর উত্তরে ট্রাম্প বারবার বলতে থাকেন, ‘আপনারা সময় মতোই তা দেখতে পাবেন।’
আর এসময় জো বাইডেন ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘কবে? ইনশাল্লাহ?’ আরবি শব্দ ‘ইনশাল্লাহ’ এর অর্থ হচ্ছে-‘যদি আল্লাহ চান।’
ট্রাম্পকে উত্তর দিতে বাইডেন হাস্যরস করলেও তার মুখে ‘ইনশাল্লাহ’ উচ্চারণকে অনেকেই ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বাইডেনের ইনশাল্লাহ বলা তার প্রচারণা শিবিরের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করেছেন ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (এনপিআর) এর জাতীয় রাজনীতি বিষয়ক প্রতিনিধি আসমা খালিদ।
এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা বিস্মিত হয়েছেন তাদের জন্য-জো বাইডেন কি ব্যঙ্গাত্মক করতে গিয়ে সত্যিই একটি ইনশাল্লাহ ফেলেছেন? হ্যাঁ, তিনি করেছেন। আমি তার প্রচারণা শিবির থেকে নিশ্চিত হয়েছি।’
মার্কিন গবেষক ও প্রভাবশালী চিন্তক সাদি হামিদ বলেন, ‘বেড়ে উঠার সময় আমার বাবা-মা যদি আমাকে বলতেন যে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের টিভি বিতর্কে একজন প্রধান প্রার্থী ইনশাল্লাহ বলেছেন, তাহলে তাদের আমি পাগল বলতাম। কিন্তু ২০২০ সালে আসলে সব কিছু সম্ভব।’
সম্প্রতি বাইডেনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রী জিল বাইডেন তাদের মোট সম্পদ ৯ লাখ ৮৫ হাজার ডলারের ৩০ শতাংশ আয়কর পরিশোধ করেছেন।
অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে গত ১৫ বছরের মধ্যে ১০ বছর ট্রাম্প কোনও আয়কর প্রদান করেননি। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মাত্র ৭৫০ ডলার করে আয়কর দিয়েছিলেন তিনি।