শরীয়তপুরের জাজিরায় পরিবারের লোকজন সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় এক প্রেমিকযুগল বিষপান করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষপানে প্রেমিকা আজিজা আক্তারের (১৭) মৃত্যু হলেও অসুস্থ প্রেমিক রুবেল বাগচি (২০) শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার পূর্বনাওডোবা ইউনিয়নের পদ্মা সেতু প্রজেক্ট এলাকা থেকে জাজিরা থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। তবে আজিজার পরিবারের অভিযোগ তাকে বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
জাজিরা উপজেলার ছোবাহানন্দি মাদবরেরকান্দি গ্রামের আয়নাল মোল্লার মেয়ে আজিজা বিকেনগর বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ত। রুবেল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নইয়ারবাড়ি গ্রামের নিখিল বাগচির ছেলে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রুবেলের দুই বন্ধুকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ফেব্রম্নয়ারি মাসে প্রেমিক রুবেল জাজিরার ছোবাহানন্দি মাদবরেরকান্দি গ্রামের আয়নাল মোল্লার বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতে আসেন। পরে আয়নালের মেয়ে আজিজার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আগস্টে উভয় পরিবারের লোকজন প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যায়। ছেলে হিন্দু আর মেয়ে মুসলিম হওয়ায় পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। সম্পর্ক ছিন্ন করতে দুই পরিবারের লোকজন তাদের চাপ দেয়। বুধবার সকালে রুবেল আজিজার সঙ্গে দেখা করতে আসে। পরে সারা দিন ঘুরে রাতে পদ্মা সেতু প্রজেক্ট এলাকার একটি গাছের নিচে বসে দুজনে বিষপান করে।
চিকিৎসাধীন রুবেল বলেন, ‘আজিজার সঙ্গে আমার আট মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক। কিন্তু পরিবার আমাদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তাই আমরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছি।’
আজিজার মামা রুবেল মোড়ল ও চাচা জালাল মোল্লা বলেন, ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আজিজাকে জোর করে বিষপান করিয়ে হত্যা করেছে রুবেল ও তার বন্ধুরা। আমরা আজিজা হত্যার বিচার চাই।’
জাজিরা থানার ওসি (তদন্ত) মিন্টু মণ্ডল জানান, বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা পদ্মা সেতু প্রজেক্ট এলাকার একটি গাছের নিচে রুবেল ও আজিজাকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ গিয়ে রুবেলকে অজ্ঞান অবস্থায় এবং আজিজাকে মৃত উদ্ধার করে। পরে রুবেলকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ময়নাতদন্তর জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি।