বিদেশে পড়ালেখা করতে যাওয়ার ইচ্ছা সবারই থাকে। অন্য দেশে গিয়ে অপরিচিত মানুষের মধ্যে পড়াশোনা করা এবং তাদের সঙ্গে বসবাস করা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। বিদেশে পড়তে যাওয়ার অনেক সুবিধা আছে। তার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও আছে। লিখেছেন ফখরুল মুজিব
সুবিধা
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য : নানা সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়। বিদেশের যেসব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশিদের পড়ার সুযোগ আছে, সেখানে পৃথিবীর অনেক দেশেরই শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। ফলে তাদের সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক এবং রীতিনীতি সম্পর্কে জানা যায়।
আত্মনির্ভরশীলতা : বিদেশে পড়তে গেলে তুমি নিজেকে আবিষ্কার করার সুযোগ পাবে। নিজের সব কাজ নিজেকেই করতে হবে। ফলে ধীরে ধীরে তুমি আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে উঠবে।
বৈচিত্র্যপূর্ণ নেটওয়ার্ক : বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়তে গিয়ে তোমার একটি বৈচিত্র্যময় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে। শিক্ষাজীবন শেষ করার পরও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারলে তোমার ক্যারিয়ার গঠনসহ বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ক্যারিয়ার : তোমার সফল ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। অনেক নতুন নতুন বিষয় ও কাজ খুঁজে পাবে, যা এদেশে নেই। সেখান থেকে নিজের পছন্দের বিষয় বাছাই করে ক্যারিয়ার গড়তে পার। তাছাড়া দেশে এসে চাকরি করতে চাইলেও বিদেশের পড়াশোনা তোমার জন্য প্লাস পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে। বিদেশে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে।
অ্যাডভেঞ্চার : যারা ঘুরতে পছন্দ কর তাদের জন্য বিদেশে পড়তে যাওয়া মানে সোনায় সোহাগা। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি নতুন দেশও ভ্রমণ করা হয়ে গেলে মন্দ কী!
অসুবিধা
নতুন পরিবেশ : বিদেশের সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশ মানিয়ে চলা প্রথম প্রথম অসুবিধা হয়ে যায়। খাদ্যভ্যাস, আচার-আচরণ, ভাষা থেকে শুরু করে সবকিছুই ভিন্ন। নতুন পরিবেশে নিজেকে বড় অসহায় লাগবে। দেশে ফিরে যেতে মন চাইবে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে কাটানো সোনালি দিনগুলো মনে পড়বে। এইসব নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে ওঠার জন্য যে মানসিক শক্তি দরকার, তা অর্জন করেই বিদেশ যাওয়া উচিত।
অতিরিক্ত প্রত্যাশা : বিদেশে যারা পড়তে যায়, সবাই অতিরিক্ত প্রত্যাশা নিয়েই যায়। তবে সেখানে গিয়ে যখন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়, তখন মোহভঙ্গ হয়। আইনের কড়াকড়ি দেখে অনেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না।
পরিবার থেকে দূরে : দেশের বাইরে গেলে পরিবারের বাঁধনমুক্ত জীবন কাটাতে হয়। ফলে অন্ধকার পথে পা দিলেও কেউ কিছু বলার থাকে না। তাই বখে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাছাড়া পরিবারের খারাপ সময়ে পাশে থাকতে না পারার দুঃখও বিদেশ পড়ুয়াদের বয়ে বেড়াতে হয়।