এ যেন ভাগ্য নির্ধারণীর অশেষ লড়াই। দুই দল মিলিয়ে ২৩ পেনাল্টি নিয়েছে কিন্তু ম্যাচের নিষ্পত্তি হওয়ার লক্ষণ নেই। অবশেষে ২৪তম পেনাল্টিতে ম্যারাথন ভাগ্য নির্ধারণীর যবনিকাপাত হলো। আর তাতে পর্তুগালের রিও আভে ক্লাবকে ৯-৮ ব্যবধানে হারিয়েছে ইতালি জায়ান্ট এসি মিলান। এতে লিগের গ্রুপ পর্ব নিশ্চিত করে মিলান। বৃহস্পতিবার ইউরোপা লিগের প্লে অফে ঘটেছে এ ঘটনা। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ২-২ গোলে অমীমাংসিত ছিল খেলা।
ফুটবলে টানা পেনাল্টির এমন ঘটনা বিরল নয় তবে কদাচিৎ ঘটে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ড্যানিশ এফএ কাপের প্রিলিমিনারি রাউন্ডের একটি ম্যাচ নিষ্পত্তি হতে ৪০ পেনাল্টি লেগেছিল। বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘ সময়ের পেনাল্টির নজির ২০০৫ সালে। নামিবিয়ান কাপে, ৪৮ পেনাল্টি। আর এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি লেগেছিল ১৯৮৮ সালে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিনশিপে, ৪৪ পেনাল্টি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টির ঘটনা ২০০৬ আফ্রিকান নেশন্স কাপের সেমিফাইনালে। আইভোরি কোস্ট ২৪ পেনাল্টির সেই ম্যাচে ক্যামেরুনকে ১২-১১ ব্যবধানে হারায়।
বৃহস্পতিবার দুই দলই নিজেদের প্রথম সাতটি পেনাল্টিতে স্কোর করে। ব্যবধান ৭-৭। পরে দুই দলই নিজেদের অষ্টম পেনাল্টি মিস করে আবার নবম পেনাল্টিতেই লক্ষ্যভেদ করে। ব্যবধান ৮-৮। এরপর আবার টানা দুটি পেনাল্টি মিস করে দুই দল। এবার খেলোয়াড়ের ভুল নয়। টানা দুটি করে পেনাল্টি রুখে দেন দুই দলের দুই গোলরক্ষক। এরপর মিলানের ১২তম পেনাল্টিতে লক্ষ্যভেদ করেন সিমন কাহের। কিন্তু রিও’র ১২তম পেনাল্টিতে অ্যাডেরালন সান্তোসের শট ফিরিয়ে দেন মিলান গোলরক্ষক ডোনারুমে। তাতেই ৯-৮ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় মিলানের।
রিও আভের মাঠে প্লে অফে ফেভারিট হয়ে নামে মিলান। গত ৮ মার্চ থেকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে একটিও হার নেই দলটির। এমন রেকর্ড তাদের নিশ্চিত জয়ী হিসেবেই এগিয়ে রাখে। কিন্তু ম্যাচে হয় উল্টো। ম্যাচে ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকে মিলান। কিন্তু উত্তেজনার ম্যাচটিতে অতিরিক্ত সময়ের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে পেনাল্টি পেয়ে যায় মিলান। ১২০তম মিনিটে ম্যাচের শেষ শটটি থেকে গোল করেন কানাগলু। ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টিতে। এরপর ওই নাটকীয় জয়।