সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দল বেঁধে ধর্ষণের মামলার আরও ৩ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ৩ নম্বর আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি এবং এজাহারের বাইরের আসামি আইনুদ্দিন ও রাজন মিয়া শনিবার বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়।
সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক জিয়াদুর রহমানের আদালতে আসামি রাজন মিয়া, সিএমএম কোর্ট-২ এর বিচারক সাইফুর রহমানের আদালতে আসামি আইনুদ্দিন ও সিএমএম কোর্ট-৩ এর বিচারক শারমিন খানম নীলার আদালতে আসামি রনি জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালতের নির্দেশে আসামিদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আদালতে ৩ আসামিই পুরো ঘটনার বিবরণ জানিয়ে এর সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানকারী আসামি রনি, আইনুদ্দিন ও রাজন ৫ দিনের রিমান্ডে ছিল। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার বিকেলে কড়া নিরাপত্তায় তাদের আদালতে হাজির করে শাহপরাণ থানা-পুলিশ। আদালতে জবানবন্দি প্রদান শেষে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ নিয়ে মামলায় গ্রেপ্তার ৮ আসামির মধ্যে ৬ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। গত শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করে মামলার ১ নম্বর আসামি সাইফুর রহমান, ৪ নম্বর আসামি অর্জুন লস্কর ও ৫ নম্বর আসামি রবিউল ইসলাম।
এদিকে মামলার ২ নম্বর আসামি তারেকুল ইসলাম ও ৬ নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুমও রিমান্ডে রয়েছে। শনিবার এই দুই আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ জন্য তাদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়। রবিবার এই দুজনকে আদালতে হাজির করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।
উল্লেখ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার এক নবদম্পতিকে এমসি কলেজের প্রধান ফটক থেকে জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নেওয়া হয়। এরপর স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গাড়ির ভেতরে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬ জন আসামির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন- বালাগঞ্জের চান্দাইপাড়া গ্রামের তাহিদ মিয়ার ছেলে সাইফুর রহমান (২৮), সুনামগঞ্জ সদরের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনিপাড়ার জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫)। মামলার আসামিরা ছাত্রলীগের ‘সক্রিয় কর্মী’ বলে পুলিশ ও দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। মামলার এজাহারনামীয় ৬ আসামিসহ ৮ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলো- আইনুদ্দিন ও রাজন মিয়া।