করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে ইনজেকশনের মাধ্যমে টিকা ব্যবহারের পাশাপাশি নাকে স্প্রে করে ব্যবহার যোগ্য এরোসল ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী বিজন কুমার শীল। সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে, সরকারের উদ্দেশ্যে এই পরামর্শ দেন তিনি।
শনিবার ইংরেজি দৈনিক নিউ এজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজন শীল বলেন, প্রাথমিকভাবে সাধারণত নাকেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটে, এখানে নাকের কোষে ভাইরাসটি তিন থেকে চারদিন পর্যন্ত অবস্থান করে। এই সময়েই নাজাল স্প্রে ব্যবহারের মাধ্যমে ভাইরাসগুলো মেরে ফেলা সম্ভব।
তিনি বলেন, ভ্যাকসিন ইনজেকশনই যথেষ্ট নয়, নাকের ভেতরে যাতে আ্যন্টিবডি তৈরি হয় সেজন্য নাজাল স্প্রে ভ্যাকসিন প্রয়োজন।
কভিড-১৯ পরীক্ষার এন্টিবডি কিট তৈরির উদ্যোক্তা, অণুজীববিজ্ঞানী বিজন জানান, করোনাভাইরাস মানুষের শরীরে নাক অথবা মুখের মাধ্যমে প্রবেশ করে এবং রক্তে প্রবেশের আগে সেখানেই সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
নাকে স্প্রে প্রয়োগ না করলে তাতে রোগীর ক্ষতি হবে, এবং ভাইরাসটি আ্যন্টিবডির মুখোমুখি হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি অন্যদের মাঝেও সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে থাকবেন।
তার মতে, সম্ভব হলে ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের আগেই মেরে ফেলা উচিত।
যেহেতু ভাইরাসটি প্রাথমিকভাবে নাকেই সংক্রমণ ঘটায়, বিশ্বের অনেক দেশেই আ্যরাসল স্প্রে তৈরির গবেষণা চলছে। বিজন শীল মনে করেন, ইনজেকশনের পাশাপাশি এধরণের স্প্রে ব্যবহারের বিষয়টিতে প্রাধান্য দেয়া উচিত বাংলাদেশ সরকারের।
১৯৯৯ সালে ছাগলের মহামারি প্রতিরোধে পিপি আর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেন বিজন শীল। ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস সনাক্তের দ্রুত পরীক্ষাপদ্ধতিও উদ্ভাবন করেন তিনি।