মিরসরাইয়ে কৃষকের জমি দখলের চেষ্টা ইঞ্জিনিয়ারের

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অভিনব কায়দায় নিরীহ কৃষকের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে শাহ আলম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কথিত ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলমের মামলা হামলাসহ নানামুখী হয়রানিতে দিশেহারা কৃষক সকির আলম লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ দেখা গেছে। 

জানা গেছে, মিরসরাই পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মঘাদিয়া মৌজায় একটি জায়গার পারিবারিক সূত্রে বিএস রেকর্ডের মালিক কৃষক সকির আলমের পরিবার। শাহ আলম নামে জনৈক এক ব্যক্তি সকির আলমের পরিবার থেকে ১৩ শতক জমির মধ্যে সাড়ে আট শতক ক্রয় করেন। এরপর পুরো ১৩ শতক জায়গা জাল জালিয়াতি করে নামজারি ও জবর দখল করে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। কৃষক সকির আলম বিষয়টি জানতে পেরে মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে মিছ মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ আমলে নিয়ে জালিয়াতি করে পুরো জায়গা নামজারি করার সত্যতা পাওয়া গেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযুক্ত শাহ আলমের সৃজিত খতিয়ান কর্তনের আদেশ দেন। সেই প্রেক্ষিতে পৌরসভা থেকে মিথ্যা তথ্য ও কাগজপত্রের মাধ্যমে ভবন নির্মাণের নেওয়া অনুমোদন বাতিল করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।  

এরই মধ্যে সকির আলমকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি ও মামলা দিয়ে জর্জরিত করে যাচ্ছেন অভিযুক্ত শাহ আলম ও তার পরিবার। মিছ মামলা চলাকালে কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ফোন করে তদবির চালানো হয় মিরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনের নিকট। একইভাবে ফোন করা হয় মিরসরাইয়ের দুই সাংবাদিকের মোবাইলেও। পরে নম্বরটি যাচাই করে ভুয়া বলে দেখা যায়। ওই প্রতারকচক্র মিরসরাই থানার ওসি মজিবুর রহমানের কাছেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে শাহ আলমের পক্ষে তদবির চালায় বলে জানা গেছে।

এর আগে গত জুন মাসে মিরসরাই পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ব মিরসরাই এলাকার শাহ আলম তার পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী মরিয়ম আক্তার, সুলতান আহম্মদ ও রহিমা বেগমের দীর্ঘ ২৫ বছরের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক গভীর গর্ত খুঁড়ে এবং টিনের ঘেরা দিয়ে রুদ্ধ করে দেন। এতে ১০টি পরিবারের হাঁটাচলার একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলেও শাহ আলম কর্ণপাত না করে প্রয়োজনে লাশ ফেলার হুমকি দেন। এ ব্যাপারে গত জুন মাসে বিভিন্ন জাতীয় আঞ্চলিক পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদনও প্রকাশ পায়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিলে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তে যান তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম। তদন্তকালে রাশেদুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর হাঁটাচলার পথে প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিবেদন দাখিল করেন।