অষ্টম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

পঞ্চম অধ্যায়

সামাজিকীকরণ ও উন্নয়ন

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

মিজান ও রাসেলের বন্ধু শিহাব অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। শিহাব আন্তঃহাউজ ইনডোর প্রতিযোগিতায় দাবায় পরপর দুবার প্রথম হয়েছে। রাসেল শিহাবের অনুপ্রেরণায় দাবা শিখে এই বছর দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। মিজান ইদানীং প্রায়ই স্কুলে দেরি করে আসে। বাড়ির কাজ ঠিকমতো করে নিয়ে আসে না। শিক্ষক মিজানের মায়ের কাছে জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন মিজান রাত জেগে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়।

ক.         গণমাধ্যম কী?

খ.         ব্যক্তির সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে? ব্যাখ্যা করো।

গ.         রাসেলের দাবায় দ্বিতীয় স্থান অধিকারের ক্ষেত্রে সামাজিকীকরণের কোন প্রতিষ্ঠানটি প্রভাব বিস্তার করেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.         মিজানের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির অপব্যবহার লক্ষ করা যায় বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক.         যেসব মাধ্যমে জনগণের কাছে সংবাদ, মতামত ও বিনোদন পরিবেশন করা হয়, তাকে গণমাধ্যম বলে।

খ.         ব্যক্তির সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সামাজিকীকরণের প্রথম এবং প্রধান বাহন হলো পরিবার। পরিবারে বসবাস করতে গিয়ে শিশু পরিবারের সদস্যদের প্রতি আবেগ, অনুভূতি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে। খাদ্যাভ্যাস, পোশাক-পরিচ্ছেদ, ধর্মচর্চা, শিক্ষাগ্রহণ ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে পারিবারিক সংস্কৃতির প্রতিফলন সরাসরি ব্যক্তির ওপর পড়ে।

গ.         রাসেল দাবায় দ্বিতীয় স্থান অধিকারের ক্ষেত্রে সামাজিকীকরণের সমবয়সী বন্ধু বা সঙ্গী প্রতিষ্ঠানটি প্রভাব বিস্তার করেছে। সামাজিকীকরণের মাধ্যমগুলোর মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি হলো সমবয়সী বন্ধু বা সঙ্গী। শৈশবে শিশুরা সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলার প্রচণ্ড আকর্ষণ থাকে। এভাবে খেলার বা পড়ার সাথীরা একে অন্যের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখে। একে অন্যের সঙ্গে মিশে তারা বিভিন্ন গুণের অধিকারী হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মিজান ও রাসেলের বন্ধু শিহাব; তারা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। শিহাব আন্তঃহাউজ ইনডোর দাবা প্রতিযোগিতায় দুবার প্রথম স্থান পায়। তার অনুপ্রেরণায় রাসেল দাবা খেলা শিখে এবং পরে সেও এক প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। তাই বলা যায়, রাসেলের মতো শিশু-কিশোরদের ভালো করার পেছনে সমবয়সীদের প্রভাব লক্ষণীয়।

ঘ.         মিজানের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি তথা ইন্টারনেটের অপব্যবহার লক্ষ করা যায়। যার সাহায্যে তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা যায়, তাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি; যেমন ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ইত্যাদি। বর্তমান সময়ের তরুণ সমাজের ওপর তথ্যপ্রযুক্তি তথা ইন্টারনেটের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনেরই প্রভাব রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহার পারস্পরিক যোগাযোগকে সহজ করে দিয়েছে। আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ভাববিনিময়, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার বৃদ্ধি করেছে, আবার যেকোনো বিষয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তবে ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার সামাজিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে; যেমনটি আমরা উদ্দীপকের মিজানের ক্ষেত্রে লক্ষ করি। মিজান ইন্টারনেট শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে না। বরং রাত জেগে ইন্টারনেটে সে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়। এতে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। ফলে তার পড়াশোনার ক্ষতি হয় এবং সে তার বাড়ির কাজও ঠিকমতো করতে পারে না। রাত জাগার ফলে তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং এতে তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ব্যাঘাত ঘটে। দেরি করে ঘুমানোর কারণে সে সকালে সময়মতো ঘুম থেকে উঠতে পারে না। ফলে স্কুলে যেতেও দেরি হয়। ওপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, মিজান যদি প্রযুক্তি তথা ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার করত, তবে তার পড়াশোনার উন্নতি হতো কিন্তু সে প্রযুক্তির অপব্যবহার করেছে বলে নেতিবাচক প্রভাব পড়াশোনার ওপর পড়েছে।