রংপুরে কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হয়রত ইউনিয়নের নানকর বাজার সংলগ্ন বেগম রোকেয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বি.এম কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে  ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলামের নামে অভিযোগ করেছেন দুই চাকরি প্রত্যাশী।

রংপুর জজকোর্টের আইনজীবী এসএম রুহুল ইসলাম রাজীবের মাধ্যমে ফাতেমা আক্তার লতা নোটিশ পাঠান অধ্যক্ষকে। 

অভিযোগ ও লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদে নিয়োগ প্রদানের নিমিত্তে প্রথম ধাপে ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।

নিয়োগ প্রদানে ব্যর্থ হলে গ্রহণকৃত টাকা ২/৩/১৮ইং তারিখে ফেরত প্রদান করবেন এই মর্মে ২/২/১৮ তারিখে ২২৪৮০৪৫,২২৪৮০৪৬,৫১২৯৬০৬ ও ৫১২৯৬০৭ নম্বর  স্টাম্পে  স্বাক্ষর করেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা দিতে ব্যর্থ হলে পুনরায় চাকরি দেবে বলে  আবারও ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন চাকরি প্রত্যাশী ফাতেমা আক্তার লতার কাছ থেকে। কিন্তু অধ্যাক্ষ চাকরি না দিয়ে চাকরি প্রত্যাশী ফাতেমা আক্তার লতার টাকা দিতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে লতা টাকা চাইতে গেলে অধ্যক্ষ তার সঙ্গে খারাপ আচরণ ও হুমকি প্রদান করেন এবং গ্রহণকৃত টাকা প্রদানে অস্বীকার করেন। বাধ্য হয়ে ফাতেমা আক্তার লতা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠান।       

একইভাবে অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলাম আতোয়ার রহমান নামে আরেকজনকে কম্পিউটার ও ল্যাবশপ সহকারী পদে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে সাত লাখ টাকা গ্রহণ করেন; এখানেও অধ্যক্ষ চাকরি না দিয়ে টাকা দিতে গড়িমসি করেন।   

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ফাতেমার আক্তার লতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, শতভাগ নিশ্চিত চাকরির কথা বলে দফায় দফায় টাকা গ্রহণ করে এখন চাকরি দিতে পারছেন না বরং নানান টালবাহানা শুরু করছেন। এত টাকা প্রদান করেও চাকরি না পাওয়ায় বর্তমানে আমার পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছে।

লতার স্বামী রোমেল মিয়া বলেন, অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলাম আমার কাছে এসে নিয়োগ পত্র দেখিয়ে বলেন সরকারি বিধি অনুযায়ী অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদে আমাদের প্রতিষ্ঠানে লোক নেওয়া হবে। যোগ্যতানুযায়ী আপনার স্ত্রী যোগ্য। সেই অনুযায়ী আমি দফায় দফায় তাকে টাকা প্রদান করি তিনি এখন বলছেন ওই পোস্টের জন্য নিয়োগ বাতিল হয়েছে তাই আয়া পোস্টে তাকে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। চাকরির দরকার নেই বলে টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা শুরু করছেন। পরে জানা গেছে নিয়োগ পত্রটি ছিল ভুয়া।      

চাকরি প্রত্যাশী আতোয়ার রহমান বলেন, আমার চাকরি নিশ্চিত বলে আমি টাকা দিয়ে দুই বছর ধরে চাকরির আশায় বেকার হয়ে বাড়িতে আছি। এখন আমার চাকরির বয়সও শেষ অধ্যক্ষের কাছে টাকা চাইলে কালক্ষেপণ ও নানানভাবে হুমকি দিচ্ছেন।

অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি লিগ্যাল নোটিশ পেয়েছেন বলে জানান।

তবে ১৪ লাখ টাকা গ্রহণের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। স্টাম্পে টাকা নেয়ার কথা উল্লেখ আছে বললে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদে নিয়োগের বিষয়টি বাতিল হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুজন প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইউএনওকে অবগত করা হয়েছে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। 

প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন ভুঁইয়া জানান, লতা ও আতোয়ার নামে দুজনের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।