রাজনৈতিক ক্ষমতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দেশজুড়ে আপস আর ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদী সমাবেশে এ কথা বলেন তারা। দেশব্যাপী নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, ‘ক্ষমতাচর্চার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে এখন সারা দেশে ভয়ের রাজত্ব তৈরি হয়েছে। সবাই আপস করে করে এই পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। যার জন্য অন্যায় দেখেও এখন সবাই চুপ করে থাকে।’
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ‘নারী-পুরুষের সম্মিলিত শক্তিতে বাংলাদেশে প্রগতিশীল জাগরণ হবে। এই বিশ্বাস রাখি। কিন্তু নারীর ওপর যেভাবে নিপীড়ন চলছে, একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, এর প্রতিরোধ জরুরি। সাংস্কৃতিক জাগরণের মাধ্যমে এসব প্রতিরোধ করতে হবে।’
মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত। আমি আমার কন্যার চোখের দিকে তাকাতে পারি না। ফেইসবুকে যে ভাষায় নারীকে নিয়ে মন্তব্য করা হয়, চারদিকে একের পর এক নারী নিপীড়নের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত। স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করার এই সময়ে এখন পাকিস্তানের মতোই আমার দেশে নারীরা ধর্ষিত হয়। তাই প্রধানমন্ত্রীকে বলব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি ঘুরে দাঁড়ান। আপনি ঘুরে দাঁড়ালেই আমরা আমাদের কন্যাদের চোখের দিকে তাকাতে পারি।’
অনুস্বর নাট্যদলের প্রধান মোহাম্মদ বারী বলেন, ‘নারীকে মানুষের মর্যাদা দিতে না পারলে এই ধর্ষণ থামানো যাবে না। সমাজ এখন পশ্চাৎপদ হচ্ছে। সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে না পারলে এই সমাজের পরিবর্তন হবে না।’
প্রতিবাদী কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা, সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, অনুস্বর নাট্যদলের প্রধান মোহাম্মদ বারী, কামাল পাশা চৌধুরী, ঝুনা চৌধুরী, চন্দন রেজা প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন মানজার হাসান চৌধুরী সুইট।
সভাপতির বক্তব্যে সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘নারী নিপীড়ন, ধর্ষণ বন্ধ করতে হলে সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে হবে। নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। প্রচলিত আইনের ফাঁক গলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।’