আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের ফলে বিরোধপূর্ণ নাগার্নো-কারাবাখ অঞ্চল ছেড়ে গেছে সেখানকার অর্ধেক মানুষ। বুধবার ওই অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে।
নাগার্নো-কারাবাখ আজারবাইজানের মধ্যে অবস্থিত হলেও আর্মেনীয় নৃগোষ্ঠীর লোকজন অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। আর আর্মেনিয়া তাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে। ১৯৯০ দশকে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অঞ্চলটি আজারবাইজান থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও এই অঞ্চলটিকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি কোনো দেশ।
অঞ্চলটি নিয়ে ৯০ এর দশকে থেকে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া বেশ কয়েকবার যুদ্ধে জড়ালে সেখানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। তুমুল যুদ্ধের পর ১৯৯৪ সাল যুদ্ধ বিরতিতে ছিল দেশ দুটি।
বিরোধপূর্ণ নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ফের যুদ্ধে জড়িয়েছে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান। এবার যুদ্ধে নামা নিয়ে উভয় পক্ষই একে-অপরকে দোষারূপ করছে এবং এখন পর্যন্ত যুদ্ধ বিরতির কোনো লক্ষণ নেই।
যুদ্ধের দামামায় কারাবাখের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক অঞ্চলটি ছেড়ে চলে গেছে বলে এএফপিকে বলেন কারাবাখবাসীদের অধিকার রক্ষণ দলের ন্যায়পাল আর্তাক বেগ্লারয়ান।
“আমাদের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী কারাবাখের প্রায় ৫০ শতাংশ বাসিন্দা এবং ৯০ শতাংশ নারী ও শিশু বা মোট ৭০ থেকে ৭৫ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে গেছেন।”
যুদ্ধের ফলে এলাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষজন জীবনের নিরাপত্তার জন্য আর্মেনিয়া বা অন্যান্য এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে এল জানান বেগ্লারয়ান। তিনি বলেন, আজারবাইজান বাহিনীর বিরতিহীন গোল বর্ষণের ফলে কারাবাখের মূল শহর ‘ভূতের’ নগরীতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, আজারবাইজান জানিয়েছে তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গানজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গোলাবর্ষণ করেছে আর্মেনিয়ায়। শহরটিতে ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের বাস।
এদিকে আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার যুদ্ধের ফলে এখন পর্যন্ত ২৯০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪৭ জনের বেশি সাধারণ নাগরিক।
এই যুদ্ধে আজারবাইজানকে সমর্থন দিচ্ছে প্রতিবেশী তুরস্ক। অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধ করতে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়াকে আহ্বান জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো।