সাভারে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের পর এবার সাভারের আশুলিয়ায় দুই বান্ধবীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রিন্স কিশোর গ্যাংয়ের দলনেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত আরও ৮ কিশোর পলাতক রয়েছে। বুধবার ভোরে খুলনা এবং আশুলিয়ার ভাদাইল ও নয়ারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে  তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট একই বাসার ভাড়াটিয়া দুই কিশোরের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে প্রিন্স কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কাছে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিল ভুক্তভোগী দুই বান্ধবী। পরে গত কয়েক দিন ধরে ধর্ষণের ভিডিওটি এলাকায় ভাইরাল হলে তা পুলিশের নজরে আসে। এ ঘটনায় পুলিশ ভিডিওটি দেখে স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের পৃথক চারটি দল অভিযান পরিচালনা করছে। 

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া ইসরাফিল জানায়,  আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় রেহানার ভাড়া বাসায় থেকে আমি গাজীপুরের বাগবাড়ি এলাকার ইউনিমাস্ক ক্যাপ তৈরির কারখানায় কাজ করি এবং আমার বন্ধু আতোয়ার পার্শ্ববর্তী মাস্টার প্রিন্টিং কারখানায় চাকরি করে। গত ৩০ আগস্ট স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক আমার ভাতিজি ও তার বান্ধবীকে নিয়ে আমরা দুই বন্ধু পার্শ্ববর্তী গুলিয়ারচক এলাকায় বেড়াতে যাই। এ সময় প্রিন্স কিশোর গ্যাং এর ১২-১৫ জন কিশোর আমাদের ঘিরে ফেলে। পরে তারা আমাদের দুই বন্ধুকে মেয়েদের সঙ্গে কি সম্পর্ক জিজ্ঞাসাবাদ করে মারধার করে একটি ফাঁকা জায়গায় আটকে রাখে। এ সময় কিশোর গ্যাং এর অন্য সদস্যরা আমার ভাতিজীসহ তার বান্ধবীকে পৃথক স্থানে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে কয়েক দিন আগে ভিডিওটি ফাঁস হলে ভুক্তভোগী দুই বান্ধবীকে মারধর করে গ্রামে চলে যেতে বাধ্য করা হয়।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসওয়াদুর রহমান জানান, দলবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিও ফাঁস হওয়ার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী দুই কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।