পাপুলকে স্থানীয় অপরাধী হিসেবে দেখছে কুয়েত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে কুয়েতের কর্তৃপক্ষ স্থানীয় অপরাধী হিসেবে দেখছে বলে জানিয়ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেছেন, 'তারা এটাকে লোকাল ইস্যু হিসাবে ট্রিট করছে, বাংলাদেশি হিসাবে নয়। কারণ উনার রেসিডেন্স কার্ড না কি জানি আছে।'  

কুয়েত সফর থেকে ফিরে বুধবার নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব বলেন তিনি।

পাপুল ইস্যুতে কুয়েত সরকারের কারও সঙ্গে মন্ত্রীর আলোচনা হয়নি দাবি করে মোমেন জানান, 'তবে যেটা আমি শুনেছি, উনি অনেক লোককে চাকরি দিয়েছিলেন এবং কুয়েতেও কিছু দুষ্ট লোক আছে। এখন তারা খুঁজে খুঁজে বের করছে যে তিনি কাউকে চাকরি দিয়েছেন কিনা। এখন তারা তাদের মনিটর করছে। ভালো হলে রাখছে, না হলে বের করে দিচ্ছে। ফলে আমাদের কিছু লোকের চাকরি হারানোর আশঙ্কা আছে।'

কুয়েতে প্রয়াত আমিরের জন্য শোক বার্তা ও নতুন আমিরকে অভিনন্দন জানানোর জন্য ৪ থেকে ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে কুয়েত সফর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সেখানে নতুন আমির ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশে একটি তেল শোধনাগার স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মোমেন বলেন, ‘আমাদের দেশে তেল শোধনাগার বানানোর প্রস্তাব দিয়েছি। তারা বলেছে, এটি উত্তম প্রস্তাব। তারা জানালো, তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি রিফাইনারি বানানোর চেষ্টা করছে।’

কুয়েতে বাংলাদেশিদের যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, 'আমি তাদের জানিয়েছি সৌদি আরব, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের দরজা উন্মুক্ত করেছে। কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন তারা দুই দিন পরে অর্থাৎ আজ (বুধবার) রাতে তারা বসবেন। তারা জানালেন, তারা খুব নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কাজ করছেন।'

কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সৌদি সরকার বলে নিশ্চিত করেন মোমেন। সৌদি আরবে ফ্লাইট চালু হওয়ার পরে ওই দেশে ঢোকা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন বাংলাদেশিরা। কারণ তাদের অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। নতুন এই নির্দেশের ফলে অনেকেই এখন সেখানে যেতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ৭ জুন মানবপাচার, ভিসা জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুলকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতের পুলিশ।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে তারা দাবি করেছে, বাংলাদেশের ওই সংসদ সদস্য মানুষকে প্রতারিত করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। ঘুষ, উপহার ও অন্যান্য সুযোগের বিনিময়ে এ কাজে তাকে কুয়েতের প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তারাও সহায়তা করেছে।