সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইনে টি-শার্ট ব্যবসা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে আরও বেশি চাঙা হয়েছে অনলাইনে কেনাকাটা।
অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা যায় এমন ব্যবসার মধ্যে টি-শার্ট বানানো এবং বিক্রি অন্যতম। ফলে তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকে এ ব্যবসার প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।
তবে এ ব্যবসায় নামতে কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি। আসুন সেগুলো জেনে নিই।
প্রোডাকশন
অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা হয় বলে পণ্যের সংখ্যা কম হয়। এতে উৎপাদনের খরচ বেড়ে যায় ও পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পরে। চেষ্টা করতে হবে ধীরে ধীরে মূলধন বাড়াতে। তাড়াহুড়ো না করে সময় নিন।
পণ্য বিক্রি
মূলধন কম, উৎপাদনে খরচ বেশি, প্রমোশন-এসব কারণে অনেক সময় পণ্য বিক্রির পরে লাভের পরিমাণ কম থাকে। এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বেড়ে যায়। ফলে বেশিদিন এ ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
ডেলিভারি
অনলাইন কেনাকাটায় সঠিক সময়ে ডেলিভারি গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেতা বা ভোক্তাদের সন্তুষ্টি অর্জনেরও বিষয় এটি। ডেলিভারি সঠিক সময়ে না হলে তারা আপনার ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।
ট্রেন্ডি ডিজাইন
ডিজাইনে নতুনত্ব না থাকলে টি-শার্ট ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন নতুন কি ট্রেন্ডের প্রতি মানুষ আগ্রহী হচ্ছে, সেসবের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ট্রেন্ড মাথায় রেখে টি-শার্টের ডিজাইন করলে পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে।
প্রতিযোগিতা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রল করলেও বোঝা যায়, টি-শার্ট ব্যবসায় কী পরিমাণ প্রতিযোগিতা। ফলে আপনার ডিজাইন চুরির সম্ভাবনাও আছে। এর মধ্যে টি-শার্টের মান আর দামের তারতম্যের উপরই নির্ভর করবে আপনার পণ্যের বিক্রি।
ট্রেড লাইসেন্স
যে কোনো ব্যবসায় নামলে সেটি আইনসম্মতভাবেই হওয়া উচিত। একইভাবে টি-শার্ট ব্যবসায়ও ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হয়। তবে এ ক্ষেত্রে ই-কমার্সের আলাদা কোনো ক্যাটাগরি নেই। অন্য ক্যাটাগরিতে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়। এর জন্য খরচ হয় ৫-১০ হাজার টাকা।
প্রচারণা
অনলাইনেই যেহেতু এ ব্যবসা, ফলে সেখানেই বাড়াতে হবে ব্যবসার প্রচারণা। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। শুধু ফেসবুক নয়, অন্যান্য প্ল্যাটফর্মও ব্যবহার করতে হবে টি-শার্ট বেচাকেনায়। অনলাইন প্রচারণায় কৌশলি ও দক্ষ কাউকে সঙ্গে রাখতে হবে।