বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙেছে সিটি করপোরেশন। যথাযথ অনুমোদন না থাকায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন স্তম্ভটি ভেঙে ফেলেছে বলে জানায়।
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মৃত্যুর প্রথম বার্ষিকীতে 'আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ' এর ব্যানারে মঙ্গলবার রাতে
রাজধানীর পলাশীর মোড়ে স্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় 'আগ্রাসন বিরোধী আট স্তম্ভ' নামের এই স্থাপনাটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে ফেলার পর, কারা এটি ভেঙ্গেছে তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নিশ্চিত করেছে, তাদের উদ্যোগেই স্থাপনাটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের নিশ্চিত করেন যে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষই ঐ স্থাপনাটি ভেঙ্গে ফেলেছে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নেয়ার কারণেই স্থাপনাটি সিটি কর্পোরেশন ভেঙ্গে ফেলেছে বলে জানান নাসের।
তিনি বলেন, ফুটপাতে, রাস্তায়, পাবলিক প্লেসে এরকম স্থাপনা নির্মাণ করতে চাইলে সিটি করপোরেশনের কাছে শুরুতে অনুমতিপত্র দিতে হয়। এরপর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করে সিটি করপোরেশন।
তিনি বলেন, এরপর যারা স্থাপনা নির্মাণ করতে চায় তাদের ওই কমিটির সামনে একটি প্রেজেন্টেশন দিতে হয়। এসবের ভিত্তিতে কমিটি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে স্থাপনাটি তৈরির অনুমতি দেওয়া হবে কি না।
পলাশীর মোড়ে মঙ্গলবার রাতে স্মৃতিস্তম্ভটি স্থাপন করার ক্ষেত্রে এরকম কোনো পদক্ষেপই মানা হয়নি বলে জানান জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের।
এ ছাড়া পলাশীর মোড়ের 'রাউন্ডঅ্যাবাউট' বা গোলচত্বরের ওপর কোনো ধরণের স্থাপনা তৈরি করলে যান বাহন চলাচলে সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে জানান নাসের।
স্মৃতিস্তম্ভটি স্থাপনের সাথে যুক্ত, বাংলাদেশ সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা আখতার হোসেন নিশ্চিত করেন যে স্তম্ভ নির্মাণের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হয়নি। এই স্তম্ভ ভাঙ্গা হলেও ঢাকার বাইরে আরো কয়েকটি জেলায় আবরারের স্মৃতির উদ্দেশ্যে স্তম্ভ নির্মাণ করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
খবর: বিবিসি বাংলা।