নগরীতে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের লাইসেন্স দিচ্ছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) কর্র্তৃপক্ষ। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ এসব ইজিবাইকের বেশিরভাগ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, নেই কোনো প্রশিক্ষণ। ফলে সড়কে শৃঙ্খলার বিষয়ে সন্দিহান নগরবাসী। কেসিসি কর্র্তৃপক্ষ বলছে, লাইসেন্স প্রদান-সংক্রান্ত সভায় চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কবে থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নগরীর বেশিরভাগ ইজিবাইক অবৈধ। এসব ইজিবাইকের চালকরা বয়সে কিশোর কিংবা শিশু। তাদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। ট্রাফিক আইন সম্পর্কেও কোনো ধারণা নেই। এজন্য নগরীতে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে ইজিবাইক। চালকরা ব্যস্ত সড়কে ইজিবাইক দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর কাজ করে। এতে যানজট দেখা দেয়। এছাড়া নির্দিষ্ট স্টপেজ না থাকায় টার্ন নিতে গিয়ে জটলা বেধে দুর্ঘটনা ঘটে।
কেসিসি কর্র্তৃপক্ষ নগরীর সড়কে বিশৃঙ্খলা ও যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে ইজিবাইক চলাচলকে চিহ্নিত করে। এরপর ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণে ২০১৬ সালে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে নানা কারণে চার বছর এটি থমকে ছিল। সর্বশেষ গত বছর ২১ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লাইসেন্স ফরম বিতরণ ও জমা নেয় কেসিসি। এ সময়ে ৮ হাজার ২২২টি ফরম বিক্রি হলেও যাচাই-বাছাই শেষে ৭ হাজার ৮৯৪টি লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। করোনা মহামারী দেখা দিলে এ প্রক্রিয়া আবার বন্ধ হয়ে যায়। তবে গত ৪ অক্টোবর থেকে লাইসেন্স দিচ্ছে কেসিসি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে এ লাইসেন্স দেওয়া হবে।
নগরবাসীরা জানায়, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়ার পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। তা না হলে কখনই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে না। নগরীর নিরালা এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইজিবাইক চালকরা খুবই বেপরোয়া। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকলে গায়ের ওপর গাড়ি তুলে দেয়। কোনো সিগন্যাল ছাড়া গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা ও নামানো হয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। লাইসেন্স দেওয়ার আগে চালকের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার।’
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর জেলা সভাপতি ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, ‘অনভিজ্ঞ কিশোর এমনকি শিশুরা নগরীতে ইজিবাইক চালিয়ে বেড়াচ্ছে। এমনিতেই তারা বেপরোয়া। এখন লাইসেন্স পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। সিটি করপোরেশন কর্র্তৃপক্ষের উচিত ছিল লাইসেন্স দেওয়ার আগে যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।’
কেসিসির সহকারী লাইসেন্স অফিসার সাঈদ কামাল বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় লাইসেন্স কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর প্রায় আট হাজার লাইসেন্স দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে আমরা একটি ব্লু বুক, কেসিসির লোগো সংবলিত একটি স্টিকার ও চলাচলের নির্দেশিকা-সংক্রান্ত একটি চিঠি দিচ্ছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স প্রদান-সংক্রান্ত সভায় ইজিবাইকচালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। লাইসেন্স দেওয়া শেষ হলে সভা ডেকে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’