মহামারীর শেষ নিয়ে ধোঁয়াশা

করোনাভাইরাস মহামারীর শেষ কোথায় তা এখনো বলতে পারছেন না গবেষক-বিজ্ঞানীরা। টিকা গবেষণার পেছনে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেও কোনো কিনারা করতে পারছেন না তারা। বেশ কয়েকটি টিকা আশার আলো জাগালেও সেগুলোর চূড়ান্ত ট্রায়াল এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তবে অতীতের মহামারীগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, কোনো মহামারীই আসলে পুরোপুরি শেষ হয়নি। পূর্বপুরুষদের আমলের প্রায় সব মহামারী এখনো আছে, কোথাও সুপ্ত অবস্থায় কিংবা কম সংক্রমণের মধ্য দিয়ে।

আজ থেকে প্রায় ৬০ প্রজন্ম আগে পৃথিবীর বুকে বুবোনিক প্লেগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। ইঁদুরের মাধ্যমে প্লেগ আকারে ব্যাকটেরিয়াটি ছড়িয়ে পড়েছিল। ইঁদুর থেকে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল বুবোনিক প্লেগ। কয়েক কোটি মানুষের মৃত্যু হয় ওই প্লেগে। ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ সালের মধ্যে ওই প্লেগকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী মহামারী বলা হয়। তবে ওই মহামারী নিয়ন্ত্রণে এসেছিল মূলত কোয়ারেন্টাইন ও পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির মাধ্যমে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের মতে, যত দিন না স্পষ্ট করে বোঝা যায় কীভাবে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস মানুষকে সংক্রমিত করে, তত দিন এদের বিরুদ্ধে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না। করোনাভাইরাস আসলেই কোথা থেকে বিস্তার লাভ করতে শুরু করেছে, বিজ্ঞানীরা এখনো তা বের করতে পারেননি। ফলে করোনাভাইরাস মহামারী আকারে আরও দীর্ঘদিন পৃথিবীর মানুষকে সংক্রমিত করলেও কিছু করার থাকবে না বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

অতীতের মহামারীগুলোর মধ্যে অন্যতম স্মলপক্স। এই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে ছড়ানো ছাড়াও স্পর্শের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। ভাইরাসটি এখনো নির্মূল না হলেও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। শুধু বিংশ শতাব্দীতেই স্মলপক্সে ৩০০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশ ডাক্তার এডওয়ার্ড জেন্নার ও একদল চিকিৎসকের চেষ্টায় স্মলপক্সকে নিয়ন্ত্রণ করতে সমর্থ হয় মানুষ। তবে প্রায় ২০০ বছর ছিল স্মলপক্সের রাজত্ব।

স্মলপক্সের পরেই সবচেয়ে প্রাণঘাতী মহামারী ছিল কলেরা। আট প্রজন্ম আগেও কলেরার প্রাদুর্ভাবে গ্রামকে গ্রাম উজাড় হতে দেখা গেছে। মূলত খাবার ও পানির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ত কলেরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান মতে, বিশে^ এযাবৎ কলেরা মোট সাতবার মহামারী হিসেবে এসেছে। আর এই সাতবারে কয়েক কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে কলেরায়।

১৮০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী আকরে ছিল। ১৯১৮ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী যাকে স্প্যানিশ ফ্লু নামে মানুষ জানে, এতে ৫০ থেকে ১০০ মিলিয়ন মানুষ মারা যায় বিশ্বব্যাপী। আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন ও পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষ ওই ফ্লুকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিল।