ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ও ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক হাসান আল মামুনসহ নিজের করা ধর্ষণ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার দাবিতে সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যে অনশনে বসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
শনিবার সকালে ওই ছাত্রীর পাশে সংহতি জানিয়ে অবস্থানরত সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক জেসমিন আক্তার রিপা বলেন, একটানা না খাওয়ার কারণে রাতে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, তার অবস্থার খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তিনি ১১ বার বমি করেছেন। আমরা আপাতত স্যালাইন চালিয়ে নিচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম ওই ছাত্রীর সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছেন। রাতে আমাদের সহকারী প্রক্টর তাকে দেখে এসেছেন। ওই শিক্ষার্থীর পাশে আমরা আছি। তার জন্য বিশ্ববিদ্যালযের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার, তা করা হচ্ছে।
টানা ২৭ ঘণ্টা অনশনের পর শুক্রবার রাতে ওই শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ডা. শেখ মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক টিম রাতে ওই ছাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
অনশনকারী ওই ছাত্রী বলেন, ধর্ষকরা জাতির শত্রু। তাদের কোনো ক্ষমা নেই। হাসান আল মামনু ও নুরুল হক নুরদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমার অনশন অব্যাহত থাকবে।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লালবাগ থানায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের তখনকার আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলাটি দায়ের করেন ওই ছাত্রী।
এজাহারে ধর্ষণে সহযোগিতাকারী হিসেবে নুরুল হক নুরের নাম উল্লেখ করা হয়। এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর বাদী কোতয়ালী থানায় একই অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।