রাশিয়ার মধ্যস্থতায় নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে চলমান যুদ্ধে বিরতি দিতে সম্মত হলেও তা পালনে গা নেই আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার। পাল্টা-পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশ দুটি। যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা দিয়েও শনিবার রাতভর প্রতিপক্ষের হামলায় নিজেদের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরীর বেসামরিক এলাকায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আজারবাইজান।
রোববার আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টুইট করে জানিয়েছে, রাতে গানজা শহরে আর্মেনিয়া বাহিনীর মিসাইল আক্রমণে সাতজনের প্রাণ গেছে এবং শিশুসহ ৩৩ জন আহত হয়েছে।
টানা দুই সপ্তাহের যুদ্ধের ইতি টানতে শুক্রবার মস্কোয় রাশিয়ার মধ্যস্থতায় ‘মানবিক কারণে’ যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হয় আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর থেকে কার্যকর করারের কথাও উল্লেখ করা হয়। কিন্তু যুদ্ধ বিরতির পরও একে-অপরকে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশ দুটি। এর ফলে যুদ্ধবিরতির কার্যকর নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে, কারাবাখের বাহিনীরা গানজা শহরে হামলা চালিয়েছে বলে আজারবাইজান যে অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে আর্মেনিয়া।
নাগার্নো-কারাবাখ আজারবাইজানের মধ্যে অবস্থিত হলেও আর্মেনীয় নৃগোষ্ঠীর লোকজন অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। আর আর্মেনিয়া তাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে। ১৯৯০ দশকে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অঞ্চলটি আজারবাইজান থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও এই অঞ্চলটিকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি কোনো দেশ।
তুমুল যুদ্ধের পর ১৯৯৪ সাল যুদ্ধ বিরতিতে ছিল দেশ দুটি। বিরোধপূর্ণ নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ফের যুদ্ধে জড়ায় আর্মেনিয়া-আজারবাইজান। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে অনেক হতাহতের খবর এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে।