মির্জা ফখরুলের বাসভবনে হামলাকারীদের খুঁজে বের করার অঙ্গীকার

ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীরসহ বৃহত্তর উত্তরার ৮ থানা বিএনপি নেতৃবৃন্দ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্তরার বাসভবনে সাক্ষাৎ করে তার বাসভবনে হামলাকারীদের খুঁজে বের করার অঙ্গীকার করেছেন।

একই সঙ্গে রবিবার দুপুরে তারা দলের মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন বলেও জানিয়েছেন।

এ সময় দলের প্রার্থীসহ নেতা–কর্মীরা গত শনিবার বিকেলে মহাসচিবের বাসভবনের সামনে দুষ্কৃতকারীদের কর্মকাণ্ড বুঝতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, দলের বৃহত্তর স্বার্থে এ ধরনের কোনো দুষ্কৃতকারী যদি দলের মধ্যে থেকে থাকে তবে তাদেরকে চিন্তিত করে শাস্তি নিশ্চিতের মধ্যে দিয়ে দলে শৃঙ্খলা ফিরে আনতে হবে। জবাবে মহাসচিব বিষয়টি দলীয় ফোরামে উত্থাপন করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানান।

জাহাঙ্গীরের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- দক্ষিণখান থানা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন সাগর ও সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর আলী, উত্তরখান থানা বিএনপির সভাপতি আহসান হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর ব্যাপারী, খিলক্ষেত থানা বিএনপির সভাপতি হাজী ফজলুল হক ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব খান স্বপন, উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম সরকার ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস.আই. টুটুল, উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক  আফাজ উদ্দিন, বিমানবন্দর থানা বিএনপির সভাপতি জুলহাস পারভেজ মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন ভূঁইয়া, তুরাগ থানা বিএনপির সভাপতি আমান উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক হারুন-উর-রশীদ খোকা প্রমুখ।

দলের মনোনয়ন এবং হামলার বিচার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত শনিবার বিকেলে বিএনপি মহাসচিবের বাসায় ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় মির্জা ফখরুল তার বাসভবনে দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় যুক্ত ছিলেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক তারা সেখানে অবস্থান করে দলের মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর সংসদের চারটি আসনের উপনির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ নেওয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যখন ভেতরে ছিলেন তখন বাইরে এস এম জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহ সভাপতি কফিল উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে কফিল উদ্দিনের ১০জন সমর্থক আহত হন। পরে এ ঘটনার বিচার চেয়ে দলের হাইকমান্ডের কাছে আবেদন জানান কফিল উদ্দিনের সমর্থকরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনকে দিয়ে এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। খোকন তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার আগেই গত শুক্রবার এস এম জাহাঙ্গীরকে ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল। পরের দিন এর প্রতিবাদে কফিলের সমর্থকরা হামলা চালায় মহাসচিবের বাসভবনে।