নাগরিক সেবায় অর্থ আদায় করায় তদন্ত কমিটি

রাজৈরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

মাদারীপুরের রাজৈরের বদরপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবিনা আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পরিষদের বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত দিয়েছেন ইউনিয়নের ১২ জনের মধ্যে আট ইউপি সদস্য। ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। ১৩ অক্টোবর বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

গত ১ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও গতকাল রবিবার অভিযোগ করা ইউপি সদস্যরা সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।

ইউপি সদস্যদের ভাষ্যমতে, বদরপাশা ইউপি চেয়ারম্যান সাবিনা আক্তার ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল বদরপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে ইউপি সদস্যরা মাত্র তিন মাসের সম্মানী পেয়েছেন। হোল্ডিং ট্যাক্সের ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধন, পরিচয়পত্র প্রদানসহ নাগরিক সেবার নামে লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন চেয়ারম্যান।

ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, পরিষদের উন্নয়নমূলক কোনো কর্মকা-েও তাদের রাখা হয় না। তাই তারা প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগদাতারা হলেনÑ ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য আলিম মাতুব্বর, ৪নং ওয়ার্ডের আরিফ সেক, ৫নং ওয়ার্ডের মাহবুব হাওলাদার, ৬নং ওয়ার্ডের ইয়াকুব আলী হাওলাদার, ৭নং ওয়ার্ডের সোরহাফ খান, ৮নং ওয়ার্ডের মো. তাজেল, সংরক্ষিত (৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড) সদস্য তিলকা মিত্র ও (৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড) মাহমুদা বেগম।

৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মাহবুব হাওলাদার বলেন, প্রায় চার বছর হতে চলছে, আমরা মাত্র তিন মাসের সম্মানী পেয়েছি। পরিষদ বিভিন্নভাবে ইনকাম করছে, গাছ বিক্রি করছে। এগুলোর টাকা কোথায় গেছে আমরা জানি না।

৪নং ওয়ার্ডের সদস্য আরিফ সেক বলেন, আমরা সরকারি কোনো অনুদানের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করি না। সচিব কীভাবে আমাদের স্বাক্ষর দিচ্ছে সেটা একমাত্র আল্লাহ জানেন।

এসবের ব্যাপারে বদরপাশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাবিনা আক্তারকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি দাবি করেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মেনেই কাজ করছেন তিনি।

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান গতকাল জানান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যদের তদন্ত কমিটি। সাত কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে প্রতিবেদন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।