সমিতি ছাড়া অন্য প্রকাশনীকে স্টল বরাদ্দ না দেওয়ার প্রস্তাব

পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সদস্য ব্যতীত অন্য কোনো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ না দিতে বাংলা একাডেমির কাছে প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। এ সময় একগুচ্ছ প্রস্তাবনা দেওয়া হয়।

গতকাল রবিবার বিকেলে গ্রন্থমেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের কাছে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পক্ষ থেকে রাজধানী শাখার সভাপতি মাজহারুল ইসলাম ও সহ-সভাপতি শ্যামল চন্দ্র পাল প্রস্তাবনাগুলো তুলে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাবীবুল্লাহ সিরাজী দেশ রূপান্তরকে বলেন, “এই বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করব না। তারা প্রস্তাবনা জানিয়েছে, এখন এই প্রস্তাবনাগুলো আমরা বিবেচনায় নেব। মেলা আয়োজনের সঙ্গে তো আরও অনেকে সংশ্লিষ্ট। সবাইকে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। প্রকাশক, লেখক, পাঠকদের নিয়ে সুষ্ঠু মেলা আয়োজনের ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। যেহেতু করোনা পরিস্থিতিতে এবার মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তাই আমাদের অনেক কিছুই আগে থেকে বলা যাবে না।”

পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সরকারি নিবন্ধনভুক্ত প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সংগঠন ‘পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি’ এবং ‘বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি’র সদস্য ব্যতীত অন্য কোনো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ না দেওয়া। তবে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের দায়িত্ব বাংলা একাডেমির।

এছাড়া করোনার কারণে ন্যূনতম ভাড়ায় স্টল বরাদ্দ দেওয়া, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ এবং ২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ একুশের চেতনাকে বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য করে তুলতে প্রকৃত ও পেশাদার প্রকাশকদের স্টলগুলো নামমাত্র মূল্যে উপহার দেওয়া, করোনার স্বাস্থ্যঝুঁকি ও স্বাস্থ্যবিধির কারণে প্রতিটি স্টলের চারদিক উন্মুক্ত রাখা এবং প্রতিটি স্টল নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থাপন করা, মেলার প্রবেশদ্বার দৃষ্টিনন্দন করা, স্বাস্থ্যবিধির বিষয় মাথায় রেখে প্রবেশদ্বারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, প্রবেশপথে আর্চওয়ের সঙ্গে ডিসইনফেকশন টানেলের মাধ্যমে মেলায় আগতদের স্প্রে করার ব্যবস্থা গ্রহণ, মাস্ক ছাড়া দর্শনার্থীদের কোনোভাবেই মেলায় প্রবেশ করতে না দেওয়া, ধুলাজনিত কারণে স্বাস্থ্য সমস্যা যাতে বৃদ্ধি না পায় সেজন্য চলাচলের সকল পথে ইট বিছানো, মেলা চলাকালে ধুলোবালি রোধে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি স্প্রে করার ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ বেশকিছু প্রস্তাবনা রয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে আসন্ন অমর একুশে গ্রন্থমেলা পরিচালনায় এই প্রস্তাবনাগুলোর বাস্তবায়ন হলে গ্রন্থমেলা অন্যবারের মতো একটি সফল মেলার রূপ পাবে বলে মনে করছেন সমিতির নেতারা।