স্বজনদের সঙ্গে ওসি প্রদীপের দেখা ও ফোনে কথা বলার আবেদন নামঞ্জুর

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার বা ফোনে কথা বলার যে আবেদন করেছিলেন, তা নামঞ্জুর করেছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। 

মঙ্গলবার দুপুরে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত এ আবেদন খারিজ করে দেন। দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় মঙ্গলবার শুনানিতে আসামি প্রদীপকে আদালতে হাজির করা হয়।

দুদকের আইনজীবী সানোয়ার আহমেদ লাভলু বলেন, দুদকের মামলায় নিয়মিত ধার্য তারিখ ছিল মঙ্গলবার। কারাগার থেকে আসামি প্রদীপ কুমার দাশকে আদালতে আনা হয়। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত শুনানিতে অংশ নেন। আসামিপক্ষ কারাগারে ওসি প্রদীপের সঙ্গে দেখা করার এবং ফোনে কথা বলার অনুমতি চেয়ে যে আবেদন করেছিল তা শুনানি শেষ আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুদকের মামলায় প্রদীপ কুমার দাশের জামিন আবেদন নাকচ করে সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর দুদকের করা এই মামলায় শুনানি শেষে প্রদীপ দাশকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয় আদালত।

গত ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে ওসি প্রদীপ এবং তার স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এই মামলার আরেক আসামি প্রদীপ কুমার দাশের স্ত্রী চুমকি কারণ পলাতক আছেন।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের টেকনাফের কাছে বাহারছড়া চেকপোস্টে গত ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ওই ঘটনার পর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস গত ৫ আগস্ট কক্সবাজারের হাকিম আদালতে নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে ১ নম্বর এবং টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ২ নম্বর আসামি করা হয়। মামলা হওয়ার পর ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য ৬ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ওই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর প্রদীপকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।