পাচকনালির অংশ যেমন পেট, ক্ষুদ্রান্ত্র ও কোলন, লিভার, গলব্লাডার, পিত্তনালি ও অগ্ন্যাশয় সম্পর্কিত রোগকে সাধারণত ডাইজেস্টিভ ডিজঅর্ডার বা হজমে সমস্যা বলে। এই রোগের মধ্যে রয়েছে প্যানক্রিয়াটাইটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), বুক জ্বালা, গলস্টোন, কোলাইটিস, আলসার, হার্নিয়া ইত্যাদি।
লক্ষণ
খাওয়ার পর পেট ফোলা এবং গ্যাস বেরোনো।
কোষ্ঠকাঠিন্য।
ঘন ঘন পেট খারাপ।
পায়খানার সঙ্গে রক্ত বের হওয়া।
বুক জ্বালা।
বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া।
পেটে ব্যথা।
গিলতে সমস্যা।
ওজন বাড়া বা কমা।
স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ করতে না পারা।
কারণ
মাইক্রোবিয়াল সংক্রমণ, পরিপাকনালির প্রদাহ, পাচক এনজাইমের অভাব, অন্ত্রে খারাপ রক্তসঞ্চালন, পিত্তথলিতে পাথর হওয়া, প্রদাহরোধী ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া, মানসিক চাপ, ধূমপান, মদ্যপান, ফ্যাটজাতীয় খাবার বেশি খাওয়া, মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অন্ত্রের কিছু অংশে বাধা সৃষ্টি করা বা গলব্লাডার কেটে বাদ দেওয়ার ফলে হজমে সমস্যা হতে পারে। রোগ প্রতিরোধকের প্রদাহ এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুখের উপস্থিতি লিভার ক্যানসার, কোলন ও প্যানক্রিয়াস ক্যানসারের মতো কিছু রোগ হজমের সমস্যা প্রভাবিত করতে পারে। এ ছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিপাকনালির কার্যক্ষমতা দুর্বল হয়ে আসে।
প্রতিকার
লক্ষণের ওপর নির্ভর করে অ্যান্টি-ডায়রিয়াল, অ্যান্টি-নউসিয়া, অ্যান্টি-এমেটিক ও অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। আর সার্জারি গলস্টোন, অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও হার্নিয়ার জন্য অস্ত্রোপচার। তবে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যায়। যেমন খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করে না খাওয়া। সময় নিয়ে ধীরে-সুস্থে ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া শেষ করা। খাওয়ার সময় ও মাঝখানে বেশি পানি পান করলে পাকস্থলীর অ্যাসিড দুর্বল হয়ে পড়ে। ভালো করে খাবার ভাঙতে পারে না। তাই খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করুন।
একেকজনের একেক ধরনের খাবার হজম করতে সমস্যা হয়। যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স আছে, তারা দুধ ও দুধের তৈরি খাবার খেতে পারেন না। অনেকের মিষ্টিজাতীয় দ্রব্য যেমন ফলের রস বা জুস, চকলেট ইত্যাদি খেলে সমস্যা হয়। কারও সমস্যা হয় রুটি, যব বা ডালজাতীয় খাবারে। যার যে খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করে তা এড়িয়ে চলতে হবে। ধূমপান, চুইংগাম চিবানো ও স্ট্র দিয়ে জুসজাতীয় খাবারের অভ্যাস বর্জন করতে হবে। পেটে গ্যাস সমস্যা তৈরি করে কৃত্রিম চিনি, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবারও। তাই এসব খাবার হিসাব করে নিয়ম মেনে খেতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য হলে পেট ফাঁপে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে আঁশযুক্ত খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।